ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও বাড়ালেন ট্রাম্প, সিরিয়াসহ পাঁচ দেশ ও ফিলিস্তিন অন্তর্ভুক্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করে সিরিয়াসহ পাঁচটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার বরাতে সিবিসি নিউজ জানায়, অভিবাসন ও নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং আরও পাঁচ দেশের ওপর পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো—বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথিপত্র ব্যবহারকারীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
অন্যদিকে অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ডোমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, টোঙ্গা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনায় এক আফগান নাগরিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভিবাসন ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও অভিবাসনের মানদণ্ড কঠোর করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে যেসব ব্যক্তির আগে থেকেই বৈধ ভিসা রয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা, কিংবা কূটনীতিক, ক্রীড়াবিদসহ নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভিসাধারী—এবং যাদের প্রবেশ মার্কিন জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত—তারা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।
এর আগে চলতি বছরের জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং আরও সাতটি দেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। সে তালিকায় আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, সম্প্রসারিত এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ও অভিবাসন—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।