শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ৭ সহকারী পুলিশ সুপার ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: ৮ শ্রমিক নিহত ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল
  • মাদুরো বনাম ট্রাম্প: ভেনেজুয়েলার তেল কি সবকিছুর মূল?

    মাদুরো বনাম ট্রাম্প: ভেনেজুয়েলার তেল কি সবকিছুর মূল?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ: মাদক বনাম সম্পদ বিতর্ক

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযান মূলত নৌপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে, যেগুলোকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলায় ৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার খবর এসেছে, যদিও উভয় পক্ষ থেকে নিশ্চিত সংখ্যা জানানো হয়নি। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অন্তত একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহনের অভিযোগে অভিযুক্ত। ভেনেজুয়েলা উপকূলে ইতিমধ্যেই মোতায়েন রয়েছে আধুনিক যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরি এবং বিপুল সেনা বহর।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আসল লক্ষ্য দেশটির মূল্যবান তেল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো সরকারের ক্ষমতা ও মাদক পরিবহন নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদিও হোয়াইট হাউস মনে করায়, মাদুরোর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ শুধু তেলের জন্য নয়, বরং মাদক এবং “অপরাধী কর্মকাণ্ড” বন্ধ করাটাই মূল অগ্রাধিকার।

    ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ও উৎপাদন

    ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুদের পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ। তবে উৎপাদন সামগ্রিক মজুদের তুলনায় খুব কম। ২০০০ সালের পর থেকে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, বিশেষ করে অভিজ্ঞ কর্মী দেশ ছাড়ার ফলে। যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন এখনও কিছু কার্যক্রম চালাচ্ছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে কার্যক্রম সীমিত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, নভেম্বর ২০২৫ অনুযায়ী দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল, যা বিশ্বব্যাপী তেলের এক শতাংশেরও কম।

    যুক্তরাষ্ট্র কি ভেনেজুয়েলার তেল চাইছে?

    মার্কিন রাজনীতিবিদরা যুক্তি দেখাচ্ছেন, ভেনেজুয়েলার তেল মার্কিন কোম্পানির জন্য একটি “স্বর্ণখনি” হতে পারে। শেভরন এবং অন্যান্য কোম্পানি এই ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তেলশিল্প পুনরুজ্জীবন করতে দশকের বেশি সময় ও কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

    মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। যদিও সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা ছিল, শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা ও চাপের নীতি নিয়েই এগোছে। এর ফলে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং দেশের নাগরিকরা বিপুল সংখ্যায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

    ভেনেজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ জব্দকে “প্রয়োজনীয়” হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও সতর্ক। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, প্রথম দফায় মাদুরোকে সরাতে ব্যর্থ হওয়াই ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতির মূল কারণ।

    সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের মধ্যে মাদক, তেল এবং রাজনৈতিক প্রভাবের জটিল সংযোগ রয়েছে। যদিও তেলের বাজারে লাভের সম্ভাবনা থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি বিষয়টি সহজ করে তুলছে না।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন