শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ৭ সহকারী পুলিশ সুপার ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: ৮ শ্রমিক নিহত ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল
  • সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি ও মানবাধিকার সতর্কতা

    সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি ও মানবাধিকার সতর্কতা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলাটিকে “ভয়াবহ” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে এবং হামলার দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা শনিবার সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চলের কাদুগলি শহরে অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর লজিস্টিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। নিহত ও আহত সবাই বাংলাদেশি নাগরিক এবং তারা ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবিয়েই (UNISFA)-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    গুতেরেসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “সুদানের কাদুগলিতে শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দায়বদ্ধদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

    সুদানের সেনাবাহিনী হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-কে দায়ী করেছে। RSF- এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই এই হামলা ঘটেছে। তবে এখনও RSF-এর পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের জন্য “প্রয়োজনীয় সব জরুরি সহায়তা” নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    আবিয়েই অঞ্চলটি তেল সমৃদ্ধ এবং সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিতর্কপূর্ণ এলাকা। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতার পর থেকে জাতিসংঘের এই মিশন সেখানে মোতায়েন রয়েছে। মহাসচিব গুতেরেস অবিলম্বে শান্তি স্থাপনের জন্য “সর্বাত্মক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া” শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    সুদানের সামরিক সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ৪০,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কোরদোফান ও দারফুর অঞ্চলে সংঘর্ষ, গণধর্ষণ ও জাতিগত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘন চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি সুদানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে UNISFA মিশনে অংশগ্রহণ করছে এবং আবিয়েই অঞ্চলে প্রায় চার হাজার পুলিশ ও সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাজ হলো বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রভাব কমানো।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন