বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পকে শক্তিশালী করতে সমন্বিত নীতিমালার আহ্বান বারভিডা

বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পকে শক্তিশালী করতে সমন্বিত নীতিমালার আহ্বান বারভিডা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

২০২৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)-র। গত ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি ক্লাবে আয়োজিত সভায় সংগঠনের প্রায় ৫৫০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন বারভিডার প্রেসিডেন্ট জনাব আবদুল হক। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, প্রাক্তন প্রেসিডেন্টবৃন্দ এবং কার্যনির্বাহী সদস্যরা।

সভায় নেতৃবৃন্দ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাতের স্থানীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পের বিকাশ এবং সরকারের রাজস্ব কাঠামোয় খাতটির অবদান তুলে ধরেন। তারা দেশের গাড়ি আমদানি বাণিজ্য এবং সরকারের অটোমোবাইল নীতিমালার আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে আবদুল হক বলেন, “গত চার দশক ধরে বারভিডা দেশের পরিবহন খাতে মানসম্পন্ন, আধুনিক যানবাহন সরবরাহ করে আসছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসা শুধুমাত্র মুনাফার জন্য নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যবসা। এটি দেশের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সাশ্রয়ী যানবাহন প্রদান করছে। জাপানের অভ্যন্তরীণ উচ্চমানের মডেল হওয়ায় এগুলো দেশে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে পরিবর্তন এসেছে, যা বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে জাতীয় স্বার্থের প্রতি নজর দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশও ইতিমধ্যেই ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। তুলনামূলক কম শুল্ক কাঠামোর কারণে বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে উঠতে পারে।”

সভায় সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, এবং ট্রেজারার সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন। সভায় আগামী অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করা হয় এবং নতুন অডিটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাধারণ সদস্যদের উন্মুক্ত আলোচনায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিভিন্ন প্রস্তাব আসে। সকলেই বারভিডাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

বারভিডা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • সদস্য সংখ্যা: প্রায় ১৩০০

  • স্থানীয় বিনিয়োগ: কয়েক হাজার কোটি টাকা

  • কর্মসংস্থান: সদস্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পে লক্ষাধিক

  • সরকারের রাজস্ব অবদান: বার্ষিক কয়েক হাজার কোটি টাকা

  • দেশের পরিবহন খাতে অবদান: প্রায় ৮৫%

  • মোংলা বন্দর সচল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা (২০০৯ সাল থেকে)

বারভিডার নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণীত হলে দেশীয় অটোমোবাইল খাত আরও শক্তিশালী, টেকসই এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন