ভেনেজুয়েলা বনাম যুক্তরাষ্ট্র: তেল ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় জলদস্যুতা নিন্দা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি বিশাল তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন মাদুরো সরকারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি ট্যাংকার আটক করেছি। এটি এখন পর্যন্ত আটক করা সবচেয়ে বড় ট্যাংকার।”
আটকের ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি ট্যাংকারটিকে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের মধ্যে অনুমোদিত তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি অপরিশোধিত তেল ট্যাংকার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভেনেজুয়েলার সরকার এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ঘোষণা করেছিলেন, দেশটি কখনও ‘তেল উপনিবেশ’ হবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছে এবং প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। জব্দের খবর প্রকাশের পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে গেছে, কারণ বাজারে স্বল্পমেয়াদী সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপ জাহাজ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি আরও ব্যাহত হতে পারে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানান, এই জব্দের ঘটনায় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI), ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ইউএস কোস্টগার্ড সমন্বয় করেছে। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, সামরিক হেলিকপ্টার জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ছে এবং সৈন্যরা দড়ি ব্যবহার করে জাহাজে অবতরণ করছেন। ভিডিওতে ইউনিফর্ম পরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বন্দুক হাতে জাহাজের চারপাশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।