গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিরা দুশ্চিন্তায়

গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত জাতিসংঘে পাস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে ফিলিস্তিনিরা গভীর সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজার নিয়ন্ত্রণ কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে চলে যেতে পারে এবং ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন আরও সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।
গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে জাতিসংঘে পাস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ঘিরে সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় সংঘাত বন্ধে ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১৭ নভেম্বর সেই প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)’ নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কার্যত আমেরিকান ট্রাস্টিশিপ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ফিলিস্তনিদের।
ফিলিস্তিনিদের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছু ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী বলছে এটি ফিলিস্তিনের স্বার্থের বিরুদ্ধে, আর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানাচ্ছে। কিন্তু এই উদ্যোগ মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে মার্কিন তত্ত্বাবধানে নিয়ে যায়। এখন ট্রাম্প যখন শান্তি পরিষদের প্রধান হবেন, তার সঙ্গে টনি ব্লেয়ারসহ এমন ব্যক্তিরা থাকবেন যারা না ফিলিস্তিনি, না আরব।’
শুধু গাজার মানুষই নয়, উদ্বেগ জানিয়েছেন দখলকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরাও। তাদের দাবি, গাজার শাসনকার্য পরিচালনার অধিকার একমাত্র ফিলিস্তিনিদেরই।
পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা বলেন, ‘আমরা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে, কারণ আমরা চাই না অপরিচিতরা এসে আমাদের শাসন করুক। আমরা ফিলিস্তিনিরা, আমরাই নিজেদের শাসন করব।’
সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ গঠন এবং গাজায় ‘আইএসএফ’ মোতায়েনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। প্রস্তাবটি ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও দাবি পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রস্তাব পাস হওয়ায় আইএসএফ গঠনে দেশগুলোর অংশগ্রহণের জন্য এখন জাতিসংঘের বৈধতা পাওয়া গেলেও, বাস্তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো বহু প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
দৈএনকে/জে, আ