যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন জটিলতায়, মোদি কোণঠাসা

বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র — যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নতুনভাবে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্য, জ্বালানি আমদানি এবং ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি পুনরায় কঠোর অবস্থান নেন, যা আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে নতুন এক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাকে ঘিরে অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই পক্ষই এখন “চুক্তির কাছাকাছি” পৌঁছেছে। তবে, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ভারতের বাণিজ্যনীতিকে ‘অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করে মোদিকে পরোক্ষভাবে চাপ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর “অতিরিক্ত শুল্ক” আরোপ করে আসছে, যা “পারস্পরিক বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট করছে।”
এই সপ্তাহে প্রচারিত এক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর চাপ দিয়ে আসছে যাতে তারা মার্কিন কৃষিপণ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিপণ্যের ওপর শুল্ক কমায়। একই সঙ্গে, ভারতও চায় যুক্তরাষ্ট্র তার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানিতে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নিক। এই টানাপোড়েনই দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে জটিল অবস্থায় রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। এক আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ বলেন, “ট্রাম্পের ভাষায় স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—ভারত যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে চায়, তাহলে তাদের বাজার আরও উন্মুক্ত করতে হবে।”
তবে এই পরিস্থিতি শুধু বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল জ্বালানি আমদানিকেও নজরে রেখেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন। তারা মনে করে, এটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং মস্কোর অর্থনীতিকে পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করছে।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতেও চলছে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার করা, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যগত কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা—এই দুই দিকেই দিল্লি সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে। তাই, বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো নতুন চুক্তি হলে সেটি ভারতের জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। তথ্যসূত্র : ফ্রান্স২৪