শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ৭ সহকারী পুলিশ সুপার ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: ৮ শ্রমিক নিহত ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল
  • শুধুমাত্র ‘শারীরিক সম্পর্ক’ মানে ধর্ষণ নয়, রায় দিল্লি হাইকোর্টের

    শুধুমাত্র ‘শারীরিক সম্পর্ক’ মানে ধর্ষণ নয়, রায় দিল্লি হাইকোর্টের
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শুধুমাত্র ‘শারীরিক সম্পর্ক’ কথাটি উচ্চারণ করলেই তা ধর্ষণের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায় দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো প্রমাণ ছাড়া এমন অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার ধর্ষণ বা জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের মামলা টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।

    বিচারপতি মনোজ কুমার ওহরির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ১৭ অক্টোবরের রায়ে এক ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন। এই ব্যক্তি আগে ১০ বছরের সাজা পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালের মামলায় অভিযোগ ছিল, ২০১৪ সালে অভিযুক্ত এক আত্মীয় এক ১৬ বছরের কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ এক বছর ‘শারীরিক সম্পর্ক’ স্থাপন করেছিলেন।

    আদালতের সামনে আসা প্রমাণে দেখা যায়, কিশোরী ও তার বাবা-মা কেবল ‘শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেই সম্পর্কের প্রকৃতি বা তার অর্থ কী, তা ব্যাখ্যা করেননি। আদালত পর্যবেক্ষণ করে বলেছে, 'এভাবে অস্পষ্টভাবে বলা ‘শারীরিক সম্পর্ক’ কথাটি আইনগতভাবে ধর্ষণ প্রমাণের মানদণ্ডে পড়ে না।' 

    আদালতের মতে, প্রসিকিউশন বা নিম্ন আদালত কেউই কিশোরীকে প্রশ্ন করেনি যে সে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছে, তাই অপরাধের মূল উপাদান প্রমাণ হয়নি। বিচারপতি ওহরি আরও বলেন, 'শিশু সাক্ষীর বক্তব্য যদি অসম্পূর্ণ হয়, আদালতের দায়িত্ব থাকে প্রশ্ন করে সেটি পরিষ্কার করা। আদালত কোনো অবস্থাতেই নির্বিকার থাকতে পারে না।' ফরেনসিক রিপোর্ট বা চিকিৎসা প্রমাণের অভাবে আদালত মন্তব্য করে যে, পুরো মামলাটি কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করেছে।

    রায়ে আরও বলা হয়েছে, 'শারীরিক সম্পর্ক' শব্দটি ভারতীয় দণ্ডবিধি বা পকসো আইনে কোথাও সংজ্ঞায়িত নয়, তাই এর অর্থ নির্ভর করে সাক্ষীর বক্তব্যের ওপর, যা এই মামলায় ব্যাখ্যা করা হয়নি। আদালত জানিয়েছে, আবেগ বা সহানুভূতি নয়, বিচার হয় প্রমাণের ভিত্তিতে, আর প্রমাণ না থাকলে দণ্ড টেকসই নয়। 

    এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে— ভবিষ্যতে শিশু সাক্ষীর ক্ষেত্রে আদালতকে আরও সক্রিয় ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে, যাতে সত্য উদঘাটন হয়। আইনজীবীরা বলছেন, এই রায় যৌন অপরাধ মামলায় প্রমাণের মানদণ্ড নতুনভাবে নির্ধারণ করবে এবং সমাজে প্রচলিত ‘শারীরিক সম্পর্ক’ শব্দের ব্যবহারের আইনগত ব্যাখ্যা যে ভিন্ন, এটিই রায়ের মূল বার্তা।


    দৈএনকে/রে,আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন