এভারেস্ট জয়ী কিংবদন্তি কাঞ্চা শেরপার প্রয়াত

‘মাউন্ট এভারেস্ট’- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এ প্রথমবারের মতো সফল আরোহনকারী ঐতিহাসিক অভিযাত্রী দলের শেষ জীবিত সদস্য কাঞ্চা শেরপা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে তাকে ‘ঐতিহাসিক ও কিংবদন্তি ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে জানায়, কাঞ্চা শেরপা বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) কাঠমান্ডুর কাপান এলাকায় নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফুর গেলজে শেরপা বলেন, ‘১৯৫৩ সালের প্রথম সফল এভারেস্ট অভিযানের শেষ জীবিত সদস্য কাঞ্চা শেরপার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার অনুপস্থিতি একটি অপূরণীয় ক্ষতি-তিনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।’ খবর আল জাজিরার।
কাঞ্চা শেরপার নাতি তেনজিং চোয়গ্যাল শেরপা সংবাদমাধ্যম ডিপিএ-কে জানান, ‘দাদুর সাম্প্রতিক সময়ে গলায় কিছু সমস্যা হয়েছিল, তবে বয়স অনুযায়ী বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না।’
১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের এডমুন্ড হিলারি এবং নেপালের শেরপা পর্বতারোহী তেনজিং নোরগে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ৮,৮৪৯ মিটার (২৯,০৩২ ফুট) উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। কাঞ্চা শেরপা ছিলেন সেই ঐতিহাসিক অভিযানের ৩৫ সদস্যের একজন এবং চূড়ার আগের শেষ ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছানো তিন শেরপার অন্যতম।
১৯৩৩ সালে কাঞ্চা শেরপার জন্ম হয় নেপালের নামচে গ্রামে, যা এভারেস্টের পাদদেশে অবস্থিত। শৈশবে তিনি আলু চাষ ও তিব্বতে বেচাকেনার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরবর্তীতে বন্ধুদের সঙ্গে ভারতের দার্জিলিং সফরে গিয়ে তিনি পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণে যুক্ত হন এবং বিদেশি অভিযাত্রীদের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
নেপালের পর্বতারোহণ জগতে কাঞ্চা শেরপা এক অনন্য নাম-যিনি শুধু ইতিহাসের সাক্ষীই নন, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন হিমালয়ের চূড়ায় মানব সাহসের পতাকা তুলে ধরার পথে।
দৈএনকে/জে .আ