ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি: ভারত সহযোগিতা করবে বাংলাদেশকে

ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানিতে ভারত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি। তিনি বলেন, শুধু জ্বালানি নয়, জলবায়ু মোকাবিলা সহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা হলে তা তিন দেশকেই লাভবান করবে। গতকাল এক সেমিনারে রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ‘বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্ক: ভাগাভাগি সমৃদ্ধির জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নীতকরণ’ শীর্ষক এক কান্ট্রি লেকচারের আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভুটানের দূত। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব মাশফি বিনতে শামস।
চলমান নানা পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে মন্তব্য করে দাশো কর্মা হামু দর্জি বলেন, এই অস্থির সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার ভাগ্যোন্নয়নে সার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে সব সদস্য দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চীন ও ভারতের সঙ্গে ভুটানের সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক ভালো।
বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে আগ্রহী ভুটান জানিয়ে ভুটানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ভুটানের সঙ্গে ২০২৩ সালের ট্রানজিট চুক্তি অনুযায়ী একটি ট্রায়াল রান পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বরে একটি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এটি ট্রানজিট অনুযায়ী সড়কপথে ভুটান যাবে। একইভাবে ভুটান থেকে আরেকটি ট্রায়াল রান পরিচালিত হবে, যেটি বাংলাদেশে হয়ে তৃতীয় কোনো দেশে যাবে।
পরিবেশ, জলবিদ্যুৎ সহযোগিতা, পর্যটন ও শিক্ষার মতো অভিন্ন অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলোর ওপর জোর দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভুটান পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দাশো কর্মা হামু দর্জি আরও জানান, বর্তমানে ২৩০ জন ভুটানি মেডিকেল শিক্ষার্থী বাংলাদেশে অধ্যয়ন করছেন। ভুটানে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ আরও সহজ হয়েছে। গত এক বছরে প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি ভ্রমণ করেছেন।
মাশফি বিনতে শামস বলেন, এই সহযোগিতাগুলো অঞ্চলে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দেশ ভুটান। দুই দেশের এই দীর্ঘ বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
দৈএনকে/রে,আ