ট্রাম্পের নোবেল বিচারক: নরওয়ের পাঁচ সদস্যের পরিচয়

নরওয়ের নোবেল কমিটির পাঁচ সদস্যই ঠিক করবেন, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাবেন কি না। ট্রাম্প ইতোমধ্যে দাবি করেছেন, তিনি বিশ্বের আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন এবং যদি পুরস্কার না পান, তা হবে ‘আমেরিকার প্রতি অপমান’।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টা (নরওয়ে সময়), ওসলোতে নোবেল ইনস্টিটিউটে। এই প্রেক্ষাপটে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির পাঁচ সদস্য সম্পর্কে আগ্রহ বাড়েছে, যারা চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম নির্ধারণ করবেন।
নরওয়ের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেয়ে ১৮৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নোবেল কমিটিতে পাঁচ সদস্য থাকেন, যারা ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তারা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পছন্দ অনুযায়ী মনোনীত হলেও পার্লামেন্টের সদস্য বা আইনপ্রণেতা হতে পারেন না। তাদের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি গোপন থাকে।
এ বছরের পাঁচ বিচারকের মধ্যে ইয়রগেন ওয়াতনে ফ্রিদনেস হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারপারসন। ৪১ বছর বয়সী ফ্রিদনেস এই কমিটির ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী চেয়ারপারসন। এই মানবাধিকারকর্মী পেন নরওয়ের মহাসচিব। উতইয়া হত্যাযজ্ঞে নিহত লেবার পার্টির তরুণদের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ করেছেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হলেও লেবার পার্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
ভাইস চেয়ারপারসন আসলে তয়ের বয়স ৫১।রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন, নোবেল ইনস্টিটিউটের সাবেক গবেষণা পরিচালক তিনি। ট্রাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন; তাকে নিয়ে তুলনামূলক সহনশীল মন্তব্য করেছেন। সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আন এঙ্গার নরওয়ের সেন্টার পার্টির রাজনীতিক। একসময় গর্ভপাতবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নরওয়ের যোগদানের বিরোধিতা করেছিলেন।
ক্রিস্টিন ক্লেমেট কনজারভেটিভ পার্টির রাজনীতিক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী। ট্রাম্পের এই সমালোচক বলেছিলেন, ট্রাম্প আমেরিকান গণতন্ত্রকে ধ্বংসের পথে নিচ্ছেন।
গ্রি লার্সেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, বর্তমানে কেয়ার নরওয়ের প্রধান। এই নারী অধিকার কর্মী ট্রাম্পের বিদেশি সহায়তা কমানোর সমালোচক। অতীতে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন।
এই কমিটিই ২০১৯ সালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকে পুরস্কার দিয়েছিল, যিনি পরের বছর টাইগ্রে অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু করেন। ২০২১-২০২৪ মেয়াদে এই কমিটি সাংবাদিক মারিয়া রেসা, দিমিত্রি মুরাতভ, মানবাধিকারকর্মী আলেস বেলিয়াতস্কি, ইরানি কর্মী নারগিস মোহাম্মাদি এবং জাপানের পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে থাকা সংগঠন 'নিহোন হিদানকিও'-কে পুরস্কৃত করেছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই সর্বোচ্চ পুরস্কারের দাবিদার।তিনি নরওয়ের কূটনীতিকদের ও সাবেক ন্যাটো প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গকেও ফোন করে লবিং করেছেন বলে খবর প্রকাশ পেয়েছে।
তবে চেয়ার ফ্রিদনেস জানিয়েছেন, 'আমরা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করি না।' ক্লেমেট ও লার্সেন- এ দুজনই ট্রাম্পবিরোধী মন্তব্য করেছেন, অন্যদিকে তয়ে কিছুটা সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন।
এই বছর ৩৩৮টি (২৪৪ ব্যক্তি ও ৯৪ প্রতিষ্ঠান) মনোনয়ন জমা পড়েছে। সম্ভাব্য বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে-সুদানের 'ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস', যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত নাগরিকদের সহায়তা করে। রয়েছেন প্রয়াত রুশ বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে এমন সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর নামও রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও স্বৈরতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে নোবেল কমিটির কাজ এবার বিশেষভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে। চেয়ারপারসন ফ্রিদনেস বলেছেন,'বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের নীতিতে অবিচল থাকতে হবে-এটাই আমাদের দায়িত্ব।'
দৈএনকে/রে,আ