PCOS: ভুল ধারণায় আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই মূল

অধিকাংশ নারী মনে করেন, ডিম্বাশয়ে সিস্ট মানেই ভয়ঙ্কর রোগ। বিশেষ করে PCOS-কে অনেকে সবচেয়ে মারাত্মক “ওভারিয়ান সিস্ট” ভেবে আতঙ্কিত হন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসলে কোনো মারাত্মক সিস্ট নয়; বরং এটি একটি হরমোনজনিত জটিলতা, যা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনে নানা প্রভাব ফেলতে পারে।
কী এই PCOS?
PCOS বা Polycystic Ovary Syndrome হলো এক ধরনের হরমোনজনিত সমস্যা, যেখানে ডিম্বাশয়ে স্বাভাবিক ডিম্বাণু পরিপক্ব হতে পারে না। এর ফলে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট থলির মতো গঠন দেখা যায়। তবে এগুলো টিউমার বা ক্যান্সারজনিত সিস্ট নয়।
সাধারণ উপসর্গ
- মাসিক অনিয়ম
- মুখে ও শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানো
- ব্রণ ও তৈলাক্ত ত্বক
- মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া
- ওজন দ্রুত বেড়ে যাওয়া
- গর্ভধারণে সমস্যা
বাংলাদেশে পরিস্থিতি
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের মধ্যে PCOS-এর হার তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশেও অনেক তরুণী ও বিবাহিত নারী এ সমস্যায় ভুগলেও সচেতনতার অভাবে দেরিতে চিকিৎসা নেন।
বিশেষজ্ঞের মত
ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনোকোলজিস্ট ডা. (কাল্পনিক নাম) সায়মা রহমান বলেন—
“PCOS কোনো মরণব্যাধি নয়। এটি জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সুষম খাবারের মাধ্যমে এ রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
করণীয়
- নিয়মিত ব্যায়াম ও সক্রিয় জীবনযাপন
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া
- প্রয়োজনীয় টেস্ট (আল্ট্রাসনোগ্রাফি, হরমোন টেস্ট) করা
- নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
PCOS কোনো “সবচেয়ে মারাত্মক সিস্ট” নয়, বরং এটি একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হরমোনজনিত সমস্যা। ভয় নয়, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনই পারে নারীদের সুস্থতার চাবিকাঠি হতে।
দৈএনকে/জে .আ