যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস প্রকাশ করলো এপস্টেইনের নথি, আলোচনায় শীর্ষ ধনীরা

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত নারী পাচারকারী ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নতুন নথিতে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক, বিল গেটস এবং যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই নথি প্রকাশ করেছেন। খবর বিবিসি।
ডেমোক্র্যাটদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, আগস্টে জারি করা একটি কংগ্রেসনাল সাবপেনার মাধ্যমে ৮ হাজার ৫৪৫টি নথি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে রয়েছে ফোন কল ও টেক্সট লগ, বিমানের ফ্লাইট লগ, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং এপস্টেইনের দৈনন্দিন কর্মসূচি।
প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দৈনন্দিন কর্মসূচির তালিকায় ইলন মাস্ক, পিটার থিয়েল, স্টিভ ব্যানন ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ বা বৈঠকের উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এপস্টেইন মাস্ককে তার কুখ্যাত ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমসে’ আমন্ত্রণ জানান। সেখানে লেখা ছিল- ‘স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ইলন মাস্ক ৬ ডিসেম্বর দ্বীপে আসবেন।’ তবে এ নিয়ে এক্স-এ (পূর্বের টুইটার) প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক দাবি করেছেন, ‘এটা মিথ্যা।’
অন্যদিকে, ২০০০ সালের মে মাসের একটি ফ্লাইট লগে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম পাওয়া গেছে। একই তালিকায় এপস্টেইন ও তার সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের নামও ছিল। ওই সময় অ্যান্ড্রু নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এবং কয়েকদিন পর যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন।
নথিতে আরও দেখা যায়, বিল গেটসের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশের পরিকল্পনা ছিল এপস্টেইনের। একইসঙ্গে বিলিয়নিয়ার ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট পিটার থিয়েল ও সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারিত ছিল। তবে এ বৈঠকগুলো আদৌ হয়েছিল কি না, নথি থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওভারসাইট কমিটির মুখপাত্র সারা গুয়েরেরো বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে এপস্টেইন ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও ধনী কিছু মানুষের বন্ধু। ভুক্তভোগী ও জীবিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি নতুন নথিই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে। অপরাধীদের শনাক্ত না করা পর্যন্ত আমরা থামব না।’
প্রকাশিত নথিতে আরও উল্লেখ আছে, ‘অ্যান্ড্রু’ নামের একজনের পক্ষ থেকে নারী মাসাজ কর্মীদের অর্থ প্রদান করেছিলেন এপস্টেইন। তবে এ বিষয়ে প্রিন্স অ্যান্ড্রু, থিয়েল বা ব্যানন কোনও মন্তব্য করেননি।
এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে তার সেলে আত্মহত্যা করেন। ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং তার মৃত্যু নিয়ে এখনও নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরপাক খাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এ মামলার ফাইল প্রকাশ না করায় সমালোচনা আরও বাড়ে। গত জুনে মাস্ক দাবি করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই ফাইল প্রকাশ আটকে দিয়েছেন, কারণ তিনি এতে জড়িত।
ওভারসাইট কমিটি জানিয়েছে, নথিপত্রের আরও পর্যালোচনা চলছে। ভুক্তভোগীদের পরিচয় এবং চলমান তদন্তের স্বার্থে কিছু অংশ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দৈএনকে/জে .আ