মার্কিন দূতের চোখে এরদোয়ান-ট্রাম্প বৈঠক নজিরবিহীন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাম্প্রতিক বৈঠককে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন দূত টম ব্যারাক ‘সেরার চেয়েও সেরা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আনাদোলু এজেন্সি সূত্রে জানা যায়, দুই নেতার বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন দূতের মতে, এই বৈঠক উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও ইতিবাচক দিক নির্দেশ করেছে।
টম ব্যারাক সাংবাদিকদের বলেন, “এ ধরনের সংলাপ যে কোনো সময়ই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই বৈঠক ছিল অভূতপূর্ব এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈঠক থেকে আসা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প–এরদোয়ান বৈঠক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক এবং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। পরে বৈঠক কর্মভোজ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার মতে, এটি সেরার চেয়েও সেরা ছিল। বিশ্বের দুই ভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা, ভিন্ন মতাদর্শের দুই অনন্য নেতা একে অপরকে সত্যিকারভাবে বুঝেছেন ও সম্মান দেখিয়েছেন।’
ব্যারাক এই বৈঠকটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করে আরও বলেন, ‘দুই পক্ষের টিম ছিল উচ্চমানের। সব বিষয়ে চমৎকারভাবে সমন্বয় হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছিলেন ভদ্র, সদয়, বুঝদার এবং আলোচ্য বিষয়ের প্রতি দৃঢ়। এরদোয়ানও শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। সত্যি বলতে, এটি ছিল ঐতিহাসিক একটি বৈঠক।’
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন অবস্থান জানতে চাইলে ব্যারাক বলেন, ওয়াশিংটন সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে। তিনি জানান, সাম্প্রদায়িক বা জাতিগত ভিত্তিতে বিভক্ত শাসনব্যবস্থা কোথাও সফল হয়নি, লেবানন ও ইরাক তার প্রমাণ।
গাজা ভূখণ্ড প্রসঙ্গে ব্যারাক বলেন, ‘অকারণে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। গাজার যুদ্ধ শেষ হওয়া জরুরি। যতক্ষণ পর্যন্ত গাজা শেষ না হচ্ছে, সবাই বিভ্রান্ত থাকবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প ও এরদোয়ান দু'জনই গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত।