শিশুর ওপর চিৎকারের বিপজ্জনক প্রভাব

বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারে সন্তানদের ভুলে চিৎকার করা এখনো "শাসন" হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু নিউরোসায়েন্স বলছে—চিৎকার শিশুর মনে শেখার আগ্রহ নয়, বরং ভয় আর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।
চিৎকারের তাৎক্ষণিক প্রভাব
যখন কোনো শিশুকে চিৎকার করে বলা হয়, “এটা কী করছো!”, তখন মুহূর্তেই তার মস্তিষ্কে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এর ফলে তার মনে জমে যায় ভয়, চাপ এবং আত্মবিশ্বাসহীনতা। বারবার এমন অভিজ্ঞতা হলে শিশুটি হয়ে ওঠে ভীতু, আত্মপ্রকাশে দ্বিধাগ্রস্ত, এমনকি সৃজনশীলতাও কমে যায়।
বিকল্প পদ্ধতি
অন্যদিকে, যদি একই ভুলে অভিভাবক ধৈর্য ধরে বলেন—“দেখো, এটা এভাবে করলে ভালো হয়…”—তাহলে শিশুর মনে জন্ম নেয় কৌতূহল। এ সময় মস্তিষ্ক থেকে নিঃসৃত হয় অক্সিটোসিন ও ডোপামিন, যা “ফিল-গুড হরমোন” নামে পরিচিত। এগুলো বাড়ায় আত্মবিশ্বাস, নিরাপত্তাবোধ ও শেখার আগ্রহ।
আমাদের দায়িত্ব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে হলে অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসনের নামে চিৎকার তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। তাই—
ভুল ধরিয়ে দিতে হবে শান্তভাবে।
প্রশংসা দিয়ে শেখার আগ্রহ জাগাতে হবে।
ভুল করলে শাস্তি নয়, সমাধানের পথ দেখাতে হবে।
চিৎকার হয়তো মুহূর্তের জন্য পরিস্থিতি বদলায়, কিন্তু আদর বদলে দেয় পুরো জীবন।
ধৈর্যই শিশুর মনে গড়ে তোলে ভালোবাসা, বিশ্বাস আর আজীবনের আত্মনির্ভরতা।
দৈএনকে/জে .আ