নবজাতক মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় চিকিৎসক জানিয়েছেন নতুন তথ্য

ভারতের উত্তর প্রদেশে ঘটে গেছে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। ২০ দিনের এক নবজাতক মেয়েকে জীবন্তভাবে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়। শিশুটি এখন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এবং জীবনের জন্য লড়াই করছে।
ঘটনাটি দুর্ঘটনাক্রমে প্রকাশ পায়, যখন এক রাখাল মাটির সদ্য খোড়া স্তূপের নিচ থেকে নরম কণ্ঠস্বর শুনে এগিয়ে যান। কাছাকাছি গিয়ে তিনি কাদার মধ্যে ছোট একটি হাত বেরিয়ে আসতে দেখেন। তিনি দ্রুত গ্রামবাসীদের খবর দেন, এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পুলিশ এখনও কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেনি, তবে এমন ধরনের ঘৃণিত কাণ্ড সাধারণত ভারতে পুত্রপ্রীতির কারণে ঘটে থাকে। এই প্রথাগত পছন্দই দেশটির বিকৃত লিঙ্গ বৈষম্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি দেশটির জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর জেলায় ঘটেছে। শিশুটি বর্তমানে স্থানীয় সরকারী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। খবর
মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. রাজেশ কুমার সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, শিশুটিকে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আনা হয়, কাদায় লেপা এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তার, কারণ কাদা তার মুখ ও নাকের মধ্যে ঢুকে পড়ে। ডা. কুমার বলেন, 'শিশুটি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল, অক্সিজেনের অভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তাকের পোকামাকড় এবং কিছু প্রাণী কামড় দিয়েছিল।'
তিনি আরও যোগ করেন, '২৪ ঘণ্টা পর তার অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা যায়, তবে পরে তার অবস্থা খারাপ হয়েছে। সে সংক্রমণ নিয়ে ভুগছে।'
ডা. কুমার মনে করেন শিশুটি কবর দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিকূল পরিস্থিতি গুরুতর, তবে আমরা শিশুটিকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের শিশু হেল্পলাইনকে শিশুটির তথ্য জানানো হয়েছে।
শাহজাহানপুরে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০১৯ সালে বিবিসি জানিয়েছিল, এক অল্পবয়সী নবজাতক মেয়েকে মাটির পাত্রে জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর শিশুটি সুস্থ হয়েছিল।
ভারত লিঙ্গ বৈষম্যের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণের মধ্যে একটি। নারীরা জীবনব্যাপী সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হন এবং বিশেষ করে দরিদ্র সম্প্রদায়ে মেয়েদেরকে আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখা হয়। অধিকারকর্মীরা বলেন, পুত্রপ্রীতির কারণে গত কয়েক দশকে কোটি কোটি (মেয়ে) ভ্রুণ হত্যা করা হয়েছে।