শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ৭ সহকারী পুলিশ সুপার ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: ৮ শ্রমিক নিহত ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল
  • নেপালের বিক্ষোভ নিয়ে অলি’র নিন্দা ও অভিযোগ

    নেপালের বিক্ষোভ নিয়ে অলি’র নিন্দা ও অভিযোগ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি বিক্ষোভের পেছনে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি, সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    সোমবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে অলি বলেন, “বিক্ষোভে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের লোকজন ঢুকে পড়েছে। আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালাচ্ছে তারা। সরকার দাবি মেনে নিলে আর বিক্ষোভ পরিস্থিতি থাকে না; কিন্তু আমরা দেখছি যে আন্দোলনের সংগঠকরা একাধিকবার তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সফল ঘোষণা করে লোকজনকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, তারপরও সহিংসতা, লুটপাট ভাঙচুর কমছে না।”

    প্রসঙ্গত, গত বছর নেপালের সুপ্রিম কোর্ট দেশটিতে সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগমগুলোকে সরকারিভাবে নিবন্ধিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের সেই নির্দেশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমগুলোকে নিবন্ধনের জন্য গত ২৮ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল।

    কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও সরকারিভাবে নিবন্ধন না করায় ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এ নিষেধাজ্ঞা।

    এদিকে, সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ করে দেশটির স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্মকে। জেন জি নামে পরিচিত এই তরুণ প্রজন্ম গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

    অবশেষে গতকাল রোববার থেকে শুরু হয় আন্দোলন এবং আজ সোমবার তা রীতিমতো উত্তাল হয়ে ওঠে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থী-জনতা। শুরুর দিকে এই বিক্ষোভে শীর্ষ দাবি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি এলেও গতকাল এটি প্রায় পুরোপুরি সরকারবিরোধী আন্দোলনে মোড় নেয়। কাঠমান্ডুর বাণেশ্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত নিহত হন ২০ জন, আহত হয়েছেন আরও শতাধিক।

    বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে গতকাল পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিরও পদত্যাগের দাবি ওঠা শুরু করেছিল।

    গতকাল রাতে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন অলি। সেই বৈঠকে ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

    কিন্তু বিক্ষোভ শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও উস্কে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালি ও আন্তর্জাতিক সংবাদামধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কাঠমান্ডুর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ।

    টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে অলি বলেন, “সরকার কখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে ছিল না, এখনও নেই। আমরা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে নেপালের আইন ও সার্বভৌমত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলাম।”

    “সংঘর্ষে যারা নিহত এবং আহত হয়েছেন, তাদের জন্য আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমি তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাচ্ছি।


    দৈএনকে/জে .আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন