নাইজেরিয়ার নাইজার স্টেটে নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ৬০-এর বেশি মানুষের

নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের নাইজার স্টেটে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নৌকাটিতে ১০০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এবং ভারসাম্যহীনতার কারণে নৌকাটি নদীতে ডুবে যায়। এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো। তবে নদীর স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। নিহতদের বেশিরভাগই স্থানীয় গ্রামে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ ছিলেন।
স্থানীয় সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।
নৌকাটি তুংগান সুলে থেকে দুগ্গা গ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে ডুবে থাকা গাছের গুঁড়িতে ধাক্কা লেগে নৌকাটি উল্টে যায়। নাইজারের সরকারি কর্মকর্তা বাবা আরা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। ১০ জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে। শাগুমি জেলার প্রধান সা'আদু ইনুয়া মুহাম্মদ বলেন, ‘আমি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ছিলাম। নৌকাটিতে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ ছিল। আমরা ৩১টি মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি এবং নৌকাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মঙ্গলবারই চারজনকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে এবং মৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। নাইজার স্টেট ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় ডুবুরিরা এখনো অভিযান চালাচ্ছেন।
সংস্থাটি বলেছে, এ পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ২ জন এখনো নিখোঁজ।
তারা আরো জানায়, নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল এবং গাছের গুঁড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নাইজেরিয়ায় এমন নৌদুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে, বিশেষ করে বর্ষাকালে। এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ হলো, নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা, নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং খারাপ অবস্থার নৌযান ব্যবহার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো জরুরি। দেশটির সরকার এখনো পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের কোনো বিবৃতি দেয়নি।