ট্রাম্পের ৫০% শুল্কে কেঁপে উঠল ভারতের অর্থনীতি

ভারতের অর্থনীতিতে টান লেগেছে মার্কিন শুল্কের কারণে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে দেশের রপ্তানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এতে ভারতীয় মুদ্রা ও শেয়ারবাজার উভয়েই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) লেনদেনের শুরুতে ডলারের বিপরীতে রুপির দর আরও ছয় পয়সা কমে ৮৮.১৬ রুপিতে নেমেছে। বৈদেশিক তহবিলের বহিঃপ্রবাহ এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে রুপির ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
ফরেক্স ব্যবসায়ীরা জানান, সোমবার লেনদেনের এক পর্যায়ে রুপি রেকর্ড সর্বনিম্ন ৮৮ দশমিক ৩৩-এ নেমে যায়, যদিও দিনের শেষে সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়ে ৮৮ দশমিক ১০-এ স্থির হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ ভারতীয় রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর প্রভাব মুদ্রা ও শেয়ারবাজার দুটোর ওপরই পড়ছে। গত তিন সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন।
সিআর ফরেক্স অ্যাডভাইজর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত পাবাড়ি বলেন, এ ধরনের ব্যাপক বহিঃপ্রবাহ শুধু রুপিকে চাপে ফেলছে না, বরং স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতাকেও সন্দেহের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রুপির জন্য ৮৮ দশমিক ৫০ একটি বড় প্রতিরোধ সীমা, আর ৮৭ দশমিক ৫০ সমর্থন সীমা হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটতে না পারায় ঝুঁকি এখনো নিম্নমুখী।
অন্যদিকে, ডলারের সূচক ০.০৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৮৪-তে। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ০.৪৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৪৫ ডলার।
এদিন ভারতের শেয়ারবাজারে অবশ্য কিছুটা উত্থান দেখা গেছে। দিনের শুরুতে সেনসেক্স বেড়েছে ২০৭ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৫৭১ দশমিক ৯৪-তে। নিফটির সূচক ৬০ দশমিক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২৪ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৮৫-এ পৌঁছেছে। তবে এক্সচেঞ্জ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ১ হাজার ৪২৯ দশমিক ৭১ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তার মতে, এ সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে এসেছে, যা ভারতের বহু বছর আগে নেওয়া উচিত ছিল।
সোমবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লেখেন, ওরা এখন শুল্ক শূন্যে নামানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সময় ফুরিয়ে আসছে। অনেক বছর আগেই ওদের এটা করা উচিত ছিল। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এতদিন ধরে ‘একতরফা বিপর্যয়’ ছাড়া আর কিছুই নয়।