বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj

চীনের সঙ্গে আস্থা ও বাণিজ্য পুনঃস্থাপনে মোদির গুরুত্বপূর্ণ সফর

চীনের সঙ্গে আস্থা ও বাণিজ্য পুনঃস্থাপনে মোদির গুরুত্বপূর্ণ সফর
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আর চীনের অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেই রবিবার (৩১ আগস্ট) চীনে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে হীরা, চিংড়ি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিপণ্য রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে ভারতের রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। 
এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বের দুই বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ ভারত ও চীন নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। চীনও নিজ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে মরিয়া। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি তাদের পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতা তাদের আবার আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও ভারতের সম্পর্ক শুধু আঞ্চলিক নয়—এর প্রভাব বৈশ্বিক।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক একদম তলানিতে পৌঁছেছিল। ভারত তখন চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে, বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয় এবং সরাসরি ফ্লাইটও স্থগিত করে।

সেই ক্ষত এখনো পুরোপুরি সারেনি, তবে মোদির সফরকে অনেকেই সম্পর্ক মেরামতের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যেই জানা গেছে, চীন ও ভারতের মধ্যে আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে এবং ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। কিছু নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে। চীন ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে চায়, আবার ভারতও চীনের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের তৈরি শিল্পনীতি চীনের মতো উৎপাদনশীল অর্থনীতির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করছে।

যেমন—অ্যাপল এখন ভারতে আইফোন ও ভিয়েতনামে অন্যান্য ডিভাইস তৈরি করছে। এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে ভারত ও চীনের সম্পর্কের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোদি এবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) ও ব্রিকসের মতো সংগঠনেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অতীতে এসব জোটকে ভারত কম গুরুত্ব দিলেও এখন বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জবাবে নতুন কৌশল নিচ্ছে। চীন, ভারত, রাশিয়া যদি একত্রে কাজ করে, তবে তারা মার্কিন বাজার নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাণিজ্য পথ তৈরি করতে পারে। অবশ্য সম্পর্কের জটিলতা এখনো কাটেনি। তিব্বত, দালাই লামা, সীমান্ত ও পাকিস্তান–এই বিষয়গুলো এখনো আলোচনার বড় বাধা। তবুও মোদির এই সফর বোঝায়, ভারত কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প পথ খুঁজছে ও বৈচিত্র্যময় বৈদেশিক সম্পর্ক গড়তে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের তাৎক্ষণিক কোনো বড় ফলাফল নাও আসতে পারে। তবে এটি সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি পদক্ষেপ—যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন