সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট সংবিধানবিরোধী: হাইকোর্ট মেধা দিয়ে দেশ গড়তে হবে, বিদেশে গেলেও দেশের কথা ভাবতে হবে: ফরিদা খানম কারিগরি ত্রুটিতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৫৬১ ‘আমাকে শুধু টাকা আয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখেছে’, পরিবার নিয়ে পপির ক্ষোভ এআই মডেলের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রোপিক সিইওর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ দুই মাসে বেনাপোলে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী শেভরন
  • অতিরিক্ত ঘুম: অলসতা না মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত?

    অতিরিক্ত ঘুম: অলসতা না মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গভীর রাতের ঘুম হলেও সকালে অ্যালার্ম বাজার পরও শরীর যেন নড়তে চায় না—এ অনুভূতি অনেকেরই জানা। অনেকেই এটিকে অলসতা বা দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা ভাবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত এই অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

    ঘুম আমাদের শরীর ও মনের পুনর্গঠনের সময়। কিন্তু যখন এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, তখন তার প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। সারাদিন ক্লান্তি, কাজে মনোযোগের অভাব, মন খারাপ কিংবা আত্মবিশ্বাস হারানো এসবের সঙ্গে যুক্ত থাকে ভোরবেলা ঘুম ভাঙতে না পারা। বিষয়টি কেবল ঘুমের নয়, বরং মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

    কেন ঘুম ভাঙে না: যদি নিয়মিত সকালে ঘুম ভাঙতে সমস্যা হয়, তবে প্রথমেই খুঁজে দেখতে হবে কোনো শারীরিক অসুস্থতা আছে কিনা। যেমন: স্লিপ অ্যাপনিয়া, নার্কোলেপসি বা ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম। এ ছাড়া ঘুম প্যারালাইসিসও ঘুম ভাঙার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। তবে চিকিৎসাগত সমস্যা না থাকলেও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    মানসিক স্বাস্থ্য ও ঘুম

    ডিপ্রেশন: দীর্ঘস্থায়ী দুঃখবোধ, শূন্যতা, ক্ষুধা বা ঘুমের অনিয়ম এসবের সঙ্গে থাকে সকালে বিছানা ছাড়তে অনীহা।
    অ্যাংজাইটি: উদ্বেগের কারণে রাতে ঘুম ভাঙে বা গভীর ঘুম হয় না, ফলে সকালে উঠে কাজ শুরু করাও কঠিন হয়ে যায়।
    বাইপোলার ডিসঅর্ডার: মুডের ওঠানামায় কখনো অনিদ্রা, কখনো অতিরিক্ত ঘুম—দুটিই হতে পারে।
    সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার: সূর্যালোক কম থাকায় বিশেষত শীতকালে অতিরিক্ত ঘুম ভাব হয়।
    এডিএইচডি: ঘুম ভাঙার পরও শরীরে শক্তির অভাব অনুভূত হয়।
    পিটিএসডি : দুঃস্বপ্ন ও ফ্ল্যাশব্যাক রাতের ঘুম নষ্ট করে, সকালে ক্লান্তি বাড়ায়।
    নিয়মিত সকালে ঘুম ভাঙতে না পারলে তা কর্মক্ষমতা কমায়, মন খারাপ বাড়ায় এবং আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। সারাদিনের শক্তি কমে যায়, সহজেই বিরক্তি আসে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এলোমেলো হয়ে পড়ে।

    করণীয়

    কাছের মানুষ বা পেশাদার কাউকে সমস্যার কথা জানান, প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
    স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন: সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
    কফি বা অ্যালকোহল কমান, ঘুমের আগে মোবাইল-টিভির স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন।
    প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার চেষ্টা করুন।
    দিনের বেলা ডায়েরি লিখুন বা পরিকল্পনা করে রাখুন, এতে রাতের দুশ্চিন্তা কমবে।
    প্রয়োজনে লাইট থেরাপি বা ডে-লাইট অ্যালার্ম ব্যবহার করতে পারেন।
    ঘুম ভাঙতে না পারা কেবল অলসতা নয় এটি মানসিক স্বাস্থ্যেরও একটি ইঙ্গিত হতে পারে। তাই সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে সমাধানের চেষ্টা করা জরুরি। মনে রাখবেন, সহায়তা চাইতে কোনো লজ্জা নেই। সুস্থ ঘুমই পারে মন ও শরীরকে সকালের নতুন আলোর মতো সতেজ করে তুলতে।


    দৈএনকে/ জে. আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ