শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশের ১৪ ফল এখন জিআই স্বীকৃত, খুলছে নতুন বাজার জীবনের জটিল সমীকরণ নিয়ে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, প্রকাশ্যে ট্রেলার ১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতি, পদায়ন ও যোগদান নিয়ে বৈঠক রোববার প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রশংসায় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত রোমে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত জর্ডানের বিপক্ষে মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনার চমক বিশ্বের দূষিত বাতাসের তালিকায় শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বায়ুমান ‘সহনীয়’ ৬ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ভারত ভ্রমণের প্রস্তুতি? জেনে নিন কোন ৫ কেন্দ্রে মিলবে ট্যুরিস্ট ভিসা দেশে আবারও বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে যোগ হলো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা
  • ঋণ পরিশোধে চাপ, অর্থনীতিতে নতুন সংকেত

    ঋণ পরিশোধে চাপ, অর্থনীতিতে নতুন সংকেত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাসেই দেশকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে প্রায় ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে আসল ৩২৭.৭২ মিলিয়ন ডলার এবং সুদ ১১৮.৯৬ মিলিয়ন ডলার। যদিও সুদের পরিমাণ সামান্য কমেছে, আসলের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়—ঋণের দায় ক্রমান্বয়ে ভারী হয়ে উঠছে।

    অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন বলছে, গত বছর যেখানে জুলাই মাসে ঋণ পরিশোধ ছিল ৩৮৫.৬৭ মিলিয়ন ডলার, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬১ মিলিয়ন ডলার বেশি। এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামীর অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়বে।

    অন্যদিকে, জুলাই মাসে বাংলাদেশ বিদেশি সহযোগীদের কাছ থেকে পেয়েছে মাত্র ২০২.৭৫ মিলিয়ন ডলার, যা পরিশোধিত অর্থের অর্ধেকেরও কম। যদিও নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩.৪৬ মিলিয়ন ডলারে, সেটি সামগ্রিক চাহিদা পূরণের জন্য অপ্রতুল। ফলে রিজার্ভ সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪.৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে নতুন ঋণ চুক্তি ও বিতরণ উভয়ই কমেছে। অর্থাৎ ঋণের দায়ভার যেমন বেড়েছে, নতুন তহবিল আসার গতি তেমনটা নেই।

    বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ এবং রেমিট্যান্স নির্ভরতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে বাড়তে থাকা ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতিকে আরও সংকীর্ণ করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার সংকট ও সুদের হার বৃদ্ধির ফলে এই চাপ দ্বিগুণ হয়ে উঠছে।

    তবে আশার বিষয়—ঋণ বিতরণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংকের সক্রিয়তা এখনও দৃশ্যমান। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে এসব সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বল্পমেয়াদি তারল্য সংকট নিরসনে কার্যকর নাও হতে পারে।

    অতএব, এখনই প্রয়োজন একটি সুপরিকল্পিত ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি করার পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণ, প্রবাসী আয়ের চ্যানেলকে শক্তিশালীকরণ এবং অপচয়ী ব্যয় কমানো—এই তিনটি পদক্ষেপ না নিলে ঋণ পরিশোধের চাপ আগামী দিনে অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

    ঋণ উন্নয়নের সহায়ক, তবে দায়ভার হয়ে দাঁড়ালে সেটিই বড় সংকটে রূপ নেয়। তাই ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিকল্প নেই।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন