মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ভোট কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, পদত্যাগে অস্বীকৃতি মমতার বাংলাদেশ অধ্যায়ের ইতি টেনে আবেগঘন বিদায় বার্তা দিলেন কোচ ক্যাবরেরা ১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা ঘটনায় পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক, ফেসবুকে ভিডিওতে নিজেকে নির্দোষ দাবি এভারটনের কাছে ড্র করে শিরোপার সমীকরণে পিছিয়ে গেল ম্যানচেস্টার সিটি, এগিয়ে আর্সেনাল রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা, শিগগিরই আসতে পারে নতুন সূচি বিজেপির উত্থান, মমতার দুর্গে ফাটল সংগ্রাম থেকে শাসনক্ষমতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের গল্প একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় রিট শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারক প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রাজনৈতিক ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করল নিউ ইয়র্ক

    শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করল নিউ ইয়র্ক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    নিউ ইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হোকল ঘোষণা করেছেন, সাইবার বুলিং ও মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধির কারণে আগামী শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬ থেকে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত করা হবে, কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত।

    সোমবার (২৫ আগস্ট) নায়াগ্রা ফলস হাইস্কুলে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এসব উদ্যোগের কথা জানান। এর ফলে স্কুলে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। ২০২৩ সালে প্রথম এই নিয়ম চালু করেছিল ফ্লোরিডা।

    নতুন নীতি অনুসারে, শিক্ষার্থীদের স্কুলের দিনের শুরুতে তাদের ফোন লক করে রাখা হবে এবং একটি থলিতে রাখা হবে যা দিনের জন্য ক্লাস ছুটি না হওয়া পর্যন্ত লক করা থাকবে।

    ক্যাথি হোকল অভিযোগ করে বলেন, এক দশক ধরে পড়াশুনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০টির মতো নেতিবাচক নোটিফিকেশন শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। যার বেশিরভাগ নেতিবাচক আর ক্ষতিকারক। টেক কোম্পানিগুলো শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করেছে। এ কারণে নিউ ইয়র্ক দেশের প্রথম স্টেট হিসেবে অনলাইন মনিটাইজেশন বন্ধ করে দিয়েছে। 

    সোমবারের গোলটেবিল বৈঠকে নায়াগ্রা ফলস সিটি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট মার্ক লরি এবং ল্যাকাওয়ানা সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট নাদিয়া নাশির উভয়ই উপস্থিত ছিলেন। তারা একমত যে- মোবাইল ফোনের ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষা থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে দেয়।

    লরি বলেন, দিনের মাঝখানে যদি শিক্ষার্থীদের ফোনে ধরা পড়ে, তাহলে চার ধাপের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম ধাপ হলো তোমাকে সতর্ক করা, ফোনটা দূরে রাখো। দ্বিতীয় ধাপ হলো তোমার ফোনটা আমাকে দাও, দিনের শেষে তুলে নাও। তৃতীয় ধাপ হলো তোমার বাবা-মাকে ফোনটা তুলে নিতে হবে। চতুর্থ ধাপ হলো, তোমার বাবা-মাকে ফোনটা তুলে নিতে হবে এবং শুনানি করতে হবে।

    নাশির বলেন, আপনি যখন স্কুলে থাকেন, তখন অবশ্যই শিক্ষাদান এবং শেখার উপর মনোযোগ দিতে হবে এবং পরিবারগুলি বিশ্বাস করতে পারে যে একবার শিক্ষার্থী এবং কর্মীরা নিরাপদে থাকলে, আমাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হল দ্রুত, স্বচ্ছভাবে এবং তারা যে ভাষায় বোঝে সেই ভাষায় যোগাযোগ করা। অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা জানেন যে কীভাবে যেকোনো সময় একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে হয় - ইমেলের মাধ্যমে, প্রধান অফিসে কল করে, রিমাইন্ড অ্যাপের মাধ্যমে, অথবা স্কুল পরিদর্শন করে।

    নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সিনিয়র হরজ্যোত কৌর বলেন, প্রতিবার যখন আমি লাঞ্চরুমে যাই, আমি মাথা দেখতে পাই। আমি মুখ দেখতে পাই না, আমি হাসি দেখতে পাই না। আমি মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে চাপা পড়ে থাকা মানুষ দেখতে পাই, এটা আমার কাছে অদ্ভুত যে আমি কারও কাছে গিয়ে- হেই, হ্যালো, কেমন আছো? বলতে পারি না কারণ তারা তাদের ফোনে এতটাই মগ্ন। 

    তবে তিনি মনে করেন যে শিক্ষার্থীদের নতুন নীতিমালার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগবে, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে শিক্ষার্থীরা তাদের ফোন থেকে দূরে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

    এর আগে, আমেরিকান সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়ে একমত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই এই উদ্যোগ সমর্থন করেছে। নতুন নীতিমালার আওতায় ১৮টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় পুরো স্কুলেই সারাদিন মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। তবে জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় এই নিষেধাজ্ঞা কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয় শুরু থেকে ছুটির ঘণ্টা পড়ার আগ পর্যন্ত প্রযোজ্য। আরও সাতটি অঙ্গরাজ্যে কেবল ক্লাস চলাকালে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে ক্লাসের ফাঁকে বা দুপুরের খাবারের সময় তা ব্যবহার করা যাবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলের ডস হাই স্কুলে শেষবর্ষের ক্লাস শুরু করেছেন জামেল বিশপ। তার ক্লাসে পাঠদানের সময় এখন মোবাইল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। যে কারণে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশে বড় পরিবর্তন চোখে পড়েছে তার।

    জামেল বলেন, আগের বছরের ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা তেমন মনোযোগ দিত না, একই প্রশ্ন বারবার করে সময় নষ্ট করতো। তবে এখন যেসব শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রয়োজন তাদের আরও বেশি সময় দিতে পারছেন শিক্ষকরা। 


    দৈএনকে/ জে. আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন