বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মরিয়মের মৃত্যু: আপসনামার পরও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট হলে ব্যবস্থা: জ্বালানি মন্ত্রী আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯৪৮ রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী: মাসব্যাপী উন্নয়ন কার্যক্রমের সমাপনী নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশেই রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রাশেদ খাঁনের মিরপুরে সংঘর্ষের পর সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবিক রাষ্ট্রের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন মরিয়মের বাবার আপসনামা দাখিল, জামিন পেলেন মাকসুদা; কারাগারেই নজরুল
  • অস্ট্রেলিয়া ‘সবচেয়ে খারাপ মা’-কে দিচ্ছে ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

    অস্ট্রেলিয়া ‘সবচেয়ে খারাপ মা’-কে দিচ্ছে ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    একসময় অস্ট্রেলিয়ার সর্বাধিক বিতর্কিত মায়েদের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিত ক্যাথলিন ফোলবিগকে দেশের ইতিহাসের একটি বড় বিচারিক ভুলের শিকার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ২০ বছর ভুলভাবে কারাবন্দি থাকার কারণে সরকার তাকে ২০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ২০০৩ সালে তার চার শিশুসন্তানের মৃত্যুর জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল ক্যাথলিন ফোলবিগকে। তবে ২০২৩ সালে একটি বিচারিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, শিশুগুলোর মৃত্যু সম্ভবত এক বিরল জিনগত সমস্যার কারণে হয়েছে।


    আইনি বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, ৫৮ বছর বয়সী ফোলবিগ অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্ষতিপূরণের একটি পেতে পারেন, যা এক কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। তবে ফোলবিগের আইনজীবী বৃহস্পতিবার জানান, সরকার তাকে মাত্র ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছে, যা তিনি গভীরভাবে ‘অবিচারপূর্ণ ও অনৈতিক’ বলে বর্ণনা করেন।

    আইনজীবী রানি রেগো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ পরিমাণ ক্ষতিপূরণ একটি নৈতিক অপমান— এটি অত্যন্ত অপ্রতুল ও নীতিগতভাবে অগ্রহণযোগ্য। বিচারব্যবস্থা আবারও ক্যাথলিন ফোলবিগকে ব্যর্থ করেছে।

    নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল ড্যালি এক বিবৃতিতে জানান, ফোলবিগের আবেদন ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তৃতভাবে’ বিবেচনার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ফোলবিগের অনুরোধে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি সরকার।

    ফোলবিগের চার শিশু সন্তান— কেলেব, প্যাট্রিক, সারা ও লরা— ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে, মাত্র ১৯ দিন থেকে ১৮ মাস বয়সে মারা যায়।

    প্রসিকিউটাররা দাবি করেন, তিনি তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।


    তার ডায়েরির কিছু অংশকে ব্যবহার করে তাকে একজন অস্থির, রাগপ্রবণ মা হিসেবে চিত্রিত করা হয়।
    ২০০৩ সালে তাকে সারা, প্যাট্রিক ও লরার হত্যার দায়ে ও কেলেবের মৃত্যুর জন্য অসতর্কতাজনিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা আপিলের পর কমিয়ে ৩০ বছর করা হয়।

    ফোলবিগ সবসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। ২০২৩ সালে একটি ঐতিহাসিক তদন্তে জানা যায়, অত্যন্ত বিরল জিনগত মিউটেশনের কারণে শিশুদের প্রাকৃতিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

    আইনজীবী রেগো বলেন, ফোলবিগ যে দীর্ঘ ২০ বছর বন্দি ছিলেন ও যে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, ক্ষতিপূরণ সেই অনুযায়ী হয়নি।


    তিনি বলেন, ‘লিন্ডি চেম্বারলেইনের বেলায় ১৯৯৪ সালে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর ৩ বছরের কারাভোগের জন্য ১৭ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। অথচ ক্যাথলিন ফোলবিগ ২০ বছর জেলে ছিলেন, আর তাকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ লাখ!’
    ফোলবিগ মুক্তি পাওয়ার পর ফরেনসিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ জানথি ম্যালেট বলেছিলেন, ‘যদি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১ কোটি ডলারের ওপরে যায় আমি অবাক হব না।’

    নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যারি এডমন্ডও বলেন, ‘ফোলবিগের ক্ষতিপূরণ অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি হতে বাধ্য।’

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ২ কোটির কাছাকাছিও হতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন