শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু স্টয়নিসের ঝড়ে এক ওভারে ৫ ছক্কা, দুঃস্বপ্নের ম্যাচ ইয়ান হল্যান্ডের গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে, ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল চীন সফর শেষে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন না করতে নির্দেশ তারেক-শি বৈঠকে নতুন গতি, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা সই ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, জনবান্ধব সেবায় জোর সরকারের মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
  • দেশে হাত বাড়ালেই মাদক

    দেশে হাত বাড়ালেই মাদক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলাদেশ আজ এক ভয়াবহ সামাজিক সংকটের মুখোমুখি। সেই সংকটের নাম—মাদক। এখন আর মাদককে দুর্লভ বা অদৃশ্য কোনো কিছুর মধ্যে খুঁজতে হয় না। 

    বাস্তবতা হলো—হাত বাড়ালেই মাদক। শহর, গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা পাড়া-মহল্লা যেখানেই চোখ রাখা যায়, মাদকের ছায়া সেখানে বিদ্যমান। এর সহজলভ্যতাই সমাজ, পরিবার ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

    সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত দেশে প্রবেশ করছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, বিদেশি মদসহ নানান ধরনের মাদক। ব্যবসায়ীরা চতুর কৌশলে এগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে সর্বত্র। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি এবং সমাজের প্রভাবশালী মহল। তাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টা অনেক সময় ব্যর্থ হচ্ছে।

    একটি জাতির মূল শক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। অথচ তারাই আজ সবচেয়ে বেশি মাদকের শিকার। হতাশা, বেকারত্ব, দিশেহারা জীবন আর বন্ধু মহলের প্রভাবে তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে ধ্বংস হচ্ছে তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। শুধু তাই নয়—মাদকের কারণে বেড়ে যাচ্ছে অপরাধ প্রবণতা, ছিনতাই, খুন-খারাপি ও চুরি-ডাকাতি।

    মাদক কেবল একজন ভোক্তার জীবনই ধ্বংস করে না, তা গোটা পরিবারকে অশান্তির মুখে ঠেলে দেয়। সংসারে দেখা দেয় আর্থিক সংকট, ভাঙে সম্পর্ক, বেড়ে যায় সহিংসতা। সমাজও হয়ে ওঠে অস্থির। অর্থাৎ একজন মাদকাসক্ত গোটা সমাজের জন্য হুমকি স্বরূপ।

    মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, দরকার সর্বজনীন সামাজিক আন্দোলন।

    সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

    পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো।

    তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা।

    নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটানো।

    আজ যদি আমরা মাদকের অভিশাপ থেকে জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, মাদকই যথেষ্ট। তাই এখনই সময় একসঙ্গে প্রতিজ্ঞা করার “মাদকের কাছে হার মানব না।” পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল এই অভিশাপ থেকে মুক্তি সম্ভব।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ