শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন-এ্যানি বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের বিরুদ্ধে জাল বিল-ভাউচার ও দুর্নীতির অভিযোগ
  • সমালোচনার মুখে যা বললেন একই নারীকে বিয়ে করা দুই ভাই

    সমালোচনার মুখে যা বললেন একই নারীকে বিয়ে করা দুই ভাই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভারতের হিমাচল প্রদেশে সম্প্রতি একই নারীকে দুই ভাইয়ের বিয়ে করার ঘটনায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন। এই ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। এবার সেই দুই ভাই এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তারা বলেছেন, সমালোচনা তাদের কোনোভাবেই প্রভাবিত করেনি, বরং তারা শতাব্দী প্রাচীন ‘হাটি’ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ হতে গর্ববোধ করছেন।

    শিল্লাইয়ের থিন্দো পরিবারের নেগি ভাইরা কুনহাট গ্রামের সুনীতা চৌহানকে ‘জোড়িদার প্রথা’ অনুসারে বিয়ে করেন। এটি স্থানীয়ভাবে ভ্রাতৃপতিত্বভিত্তিক বহুপতি প্রথা নামে পরিচিত, যেখানে দুই ভাই একই নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

    ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে প্রদীপ নেগি বলেন, এই প্রথা বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এবং চলতেই থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মানুষ গালি দিচ্ছে, তাতে আমার কিছু আসে যায় না।

    তিনি জানান, এই প্রথা শুধু তাদের এলাকায় নয়, উত্তরাখণ্ডের জৌনসার-বাওয়ার অঞ্চলেও প্রচলিত, যেখানে একই নারীর সঙ্গে দুই বর মালা বদল করে বিবাহ সম্পন্ন করেন।

    প্রদীপের ভাই কপিল নেগি জানান, যে তাদের এই বিবাহ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয়েছে—কোনো জোরজবরদস্তি ছাড়াই। এই বন্দোবস্তে উভয় ভাই ও তাদের স্ত্রী সম্মত ছিলেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকেও পূর্ণ সমর্থন ছিল।

    প্রদীপ বলেন, আমরা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পক্ষে কথা বলে যাবো। যারা আমাদের রীতি জানেন না, তারাও মতামত দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা সবাই মিলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং পরিবার ও সমাজ এতে সন্তুষ্ট।

    প্রদীপ আরও জানান, তারা নিম্নআয়ের পরিবার থেকে এসেছেন, সম্পত্তি সামান্য এবং খ্যাতির কোনো লোভ নেই।

    কপিল বলেন, সংবাদ শিরোনামে আসার জন্য আমরা বিয়ে করিনি। প্রদীপের ভাষায়, এই বিয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো একসঙ্গে থাকা এবং ভালোবাসা বজায় রাখা। মানুষকে বলছি, আমাদের সমালোচনা করবেন না—আমরা আমাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট।

    বিয়েটি শিল্লাই গ্রামের ট্রান্স-গিরি অঞ্চলে ১২ জুলাই শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী চলে। নাচ, স্থানীয় লোকগীতি এবং গ্রামীণ উৎসবের রঙিন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

    শতাব্দী-প্রাচীন এই প্রথার উদ্দেশ্য হলো পূর্বপুরুষদের জমি খণ্ডিত হওয়া রোধ করা—যা পাহাড়ি কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় সমস্যা। এ ধরনের বিবাহে সাধারণত বড় ভাইকেই সন্তানদের আইনি পিতা হিসেবে গণ্য করা হয়।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন