অবৈধ বসতিতে মার্কিন হাউস স্পিকারের সফর, ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ

হাউস স্পিকার মাইক জনসনের সাম্প্রতিক সফরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতি পরিদর্শনের ঘটনায় ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা সফরটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করেছে।
জনসন রামাল্লার উত্তরে আরিয়েল বসতি পরিদর্শন করেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্বারা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। তিনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট-কে বলেন, ‘জুডিয়া ও সামারিয়া (পশ্চিম তীরের বাইবেলীয় নাম) ইসরায়েলের অঙ্গীভূত অংশ এবং তা থাকবে—এমনকি যদি বিশ্ব ভিন্ন মতও পোষণ করে।’
তার এই বক্তব্য আসে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু মিত্ররাষ্ট্র ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে।
মার্কিন হাউস স্পিকারের এমন সফরের প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সমস্ত বসতি কার্যকলাপ অবৈধ এবং এটি দুই রাষ্ট্রের সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।’
তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, জনসনের এই সফর আরব ও মার্কিন প্রচেষ্টার বিপরীত, যা সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজি ) এবং জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি ‘অবৈধ’।
ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখল করে এবং ১৯৮০ সালে সমগ্র জেরুজালেমকে নিজেদের অংশ বলে ঘোষণা করে।
চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি নিজের জনগণকে দখলকৃত ভূমিতে স্থানান্তর করতে পারবে না—যা ইসরায়েল লঙ্ঘন করছে।
গাজায় যুদ্ধের পাশাপাশি, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতিবাদীদের হামলা বেড়েছে। গত জুলাইয়ে দুই মার্কিন নাগরিকসহ একাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো সংস্থাগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ব্যবস্থা চালুর অভিযোগ করেছে।
মার্কিন হাউস স্পিকার মাইক জনসনের পশ্চিম তীর সফর ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে সমর্থনের একটি রাজনৈতিক বার্তা। কিন্তু এটি শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করছে, বিশেষত যখন গাজায় যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে সহিংসতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দৈএনকে/জে, আ