মিরপুর-১১-তে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধাওয়া

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর মিরপুরে। এ সময় মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। আগুনে গাড়িটি পুড়ে যায়। পরে আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীদেরও ধাওয়া করেন শ্রমিকরা।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় শ্রমিকরা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাঁদের ধাওয়া দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের কারণে মিরপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন বলেন, খবর পেয়ে পল্লবী স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। তবে আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়িটি পুলিশের কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
এর আগে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শ্রমিকদের লাঠিপেটা করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকরা মিরপুর-১০ এলাকা থেকে সরে গেলেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।