ফেসবুক লাইভে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়লেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান

‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে নিজের সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে পত্রিকাটির একটি কপি ছিঁড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে পত্রিকাটি ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়।
ভিডিওতে রাশেদ খান বলেন, গত ১৫ অক্টোবর ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন?’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে নিয়ে মাত্র কয়েকটি লাইন লেখা হলেও সেগুলো তাঁকে উদ্দেশ্য করে খোঁচা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে।
প্রতিবেদনের পঞ্চম পাতায় তাঁকে নিয়ে লেখা অংশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের পক্ষে বক্তব্য তৈরিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তাঁর কিছু বক্তব্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। রাশেদের দাবি, তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করার উদ্দেশ্যেই ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনেরও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ বলেন, তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁকে নিয়ে এ ধরনের কটাক্ষমূলক মন্তব্য করা কোনো পত্রিকার জন্য সমীচীন নয় বলে তিনি মনে করেন।
ভিডিওতে জামায়াতে ইসলামীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তোলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ জানালেও জামায়াত তা গ্রহণ করেনি।
রাশেদ বলেন, তাঁর বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে জামায়াত চাইলে তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারে। এমনকি দলটির আমির সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বললেও তিনি তথ্য দিতে প্রস্তুত। তবে তাঁর অভিযোগ, জামায়াত এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি দাবি করেন, বৈঠকের ঘটনা সত্য এবং তাঁর বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে জনগণের দেওয়া শাস্তি মেনে নেবেন।
‘আমার দেশ’ পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশের সমালোচনা করে রাশেদ বলেন, তাঁর বক্তব্যের জবাব না দিয়ে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এ সময় শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নির্যাতন এবং অতিরিক্ত তিন দিন পুলিশি হেফাজতে থাকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তাঁর ছবি প্রকাশ করে তাঁকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ।
‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি আগে শ্রদ্ধা ছিল উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মাহমুদুর রহমানও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সে কারণে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া তাঁকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য ও ট্যাগিং করা অনভিপ্রেত। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।