রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পিএসসির নতুন সদস্য অধ্যাপক শামীমা সুলতানার শপথ গ্রহণ এপিএলের প্লাটিনাম ও ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটার তাহসিফ হত্যা মামলায় জেরিকা দিশার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নরওয়ের সহযোগিতা চাইলেন স্পিকার হামের উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু, এ বছর প্রাণহানি ১ হাজার ২৫৪ ট্রেনের লাইভ অবস্থান জানাবে দেশীয় তরুণের তৈরি ‘বিডি ট্রেন ট্র্যাকিং’ অ্যাপ ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কর্মজীবনে প্রতিফলিত হওয়া চলবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন এলডিসি উত্তরণে তিন বছরের ছাড়, ব্যতিক্রমী সংস্কার না হলে ক্ষুণ্ন হবে দেশের ভাবমূর্তি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন করল সরকার
  • ট্রেনের লাইভ অবস্থান জানাবে দেশীয় তরুণের তৈরি ‘বিডি ট্রেন ট্র্যাকিং’ অ্যাপ

    ট্রেনের লাইভ অবস্থান জানাবে দেশীয় তরুণের তৈরি ‘বিডি ট্রেন ট্র্যাকিং’ অ্যাপ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ট্রেনের জন্য স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় অনেক যাত্রীকে। কখনো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ে ট্রেন, আবার কখনো পথে দুর্ঘটনা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায় চলাচল। অথচ ট্রেনটি কোথায় আছে কিংবা কখন স্টেশনে পৌঁছাবে, তা জানার নির্ভরযোগ্য উপায় অনেক সময় থাকে না। যাত্রীদের এই অনিশ্চয়তা কমাতে তৈরি হয়েছে ‘বিডি ট্রেন ট্র্যাকিং’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ।

    বাংলাদেশের ট্রেনের লাইভ অবস্থান জানার এই অ্যাপটি পরিচালিত হয় যাত্রীদের অংশগ্রহণে। ট্রেনে থাকা যাত্রীরা নিজেদের অবস্থান শেয়ার করলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে অন্য ব্যবহারকারীরা জানতে পারেন ট্রেনটি কোথায় রয়েছে, কী গতিতে চলছে, পরবর্তী স্টেশন কোনটি এবং নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কতটা দেরি হচ্ছে।

    স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী, কাউকে আনতে যাওয়া স্বজন কিংবা ট্রেনে ভ্রমণকারী—সবার কাজে আসতে পারে অ্যাপটি। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায় এটি। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই রয়েছে অ্যাপটির সংস্করণ।

    অ্যাপটি তৈরি করেছেন মো. আল আমিন। তিনি ‘গতিশীল ভেঞ্চারস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। অ্যাপটির পরিকল্পনা, নকশা ও নির্মাণ থেকে শুরু করে এর পরবর্তী উন্নয়ন—সবকিছুই নিজে সামলাচ্ছেন তিনি।

    আল আমিন জানান, ট্রেন ভ্রমণের প্রতি তাঁর আগ্রহ থেকেই অ্যাপটি তৈরির চিন্তা আসে। জানালার পাশে বসে দেশের মাঠ-ঘাট, নদী ও গ্রাম দেখতে দেখতে ট্রেনে যাতায়াত করতে ভালোবাসেন তিনি। তবে ভ্রমণের সময় প্রায়ই দেখতেন, ট্রেন দেরিতে চলছে আর স্টেশনে অসংখ্য মানুষ অপেক্ষা করছেন। ট্রেনটি কোথায় আছে কিংবা কখন পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য থাকত না।

    এ ধরনের অনিশ্চয়তায় যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। কেউ অফিসে পৌঁছাতে দেরি করেন, কেউ পরীক্ষা বা চাকরির সাক্ষাৎকারে সময়মতো উপস্থিত হতে পারেন না। আবার জরুরি কাজ কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তও হাতছাড়া হতে পারে।

    এই পরিস্থিতি থেকে সমাধানের ভাবনা আসে বলে জানান আল আমিন। তাঁর চিন্তা ছিল, ট্রেনে থাকা যাত্রীরা যদি নিজেদের অবস্থান শেয়ার করেন, তাহলে স্টেশনে অপেক্ষমাণ অন্যরা ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী সময় পরিকল্পনা করতে পারবেন। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে ‘বিডি ট্রেন ট্র্যাকিং’।

    অ্যাপটিতে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান, চলার গতি, পরবর্তী স্টেশন এবং বিলম্বের তথ্য মানচিত্রে দেখা যায়। একই সঙ্গে দেশের কোন কোন ট্রেন বর্তমানে চলাচল করছে, সেগুলো তালিকা ও মানচিত্র—দুইভাবেই দেখার সুযোগ রয়েছে। স্যাটেলাইট মানচিত্রে ট্রেনের অবস্থান অনুসরণ করা যায়। পুরো যাত্রাপথের পাশাপাশি প্রতিটি স্টেশনে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় ও বিলম্বের তথ্যও পাওয়া যায়।

    এ ছাড়া আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট স্টেশনে কোন কোন ট্রেন পৌঁছাতে পারে, প্ল্যাটফর্মসহ সেই তথ্যও দেখা যায়। ট্রেনের নাম, নম্বর কিংবা যাত্রার শুরুর ও শেষের স্টেশন দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়। এমনকি কথা বলেও ট্রেন খোঁজার সুবিধা রয়েছে।

    অ্যাপটির অন্যতম আকর্ষণ যাত্রীদের জন্য চালু করা ‘ট্রেন চ্যাট’। একই ট্রেনের যাত্রীরা এই সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। ট্রেন কোথায় আটকে আছে, কতটা দেরি হতে পারে, কোন বগিতে ভিড় কম কিংবা প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন হয়েছে কি না—এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। স্টেশনে অপেক্ষমাণ কেউ জানতে চাইলে ট্রেনে থাকা যাত্রীরাও তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দিতে পারেন।

    আল আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন অ্যাপটিতে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার চ্যাট বার্তা আদান-প্রদান হয়। নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে মডারেটর রয়েছেন। পাশাপাশি আপত্তিকর বার্তা রিপোর্ট করা এবং কোনো ব্যবহারকারীকে ব্লক করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    যাত্রীদের জন্য রয়েছে ‘হারানো ও পাওয়া’ সুবিধা। ট্রেনে কিংবা স্টেশনে কোনো জিনিস হারিয়ে গেলে বা পাওয়া গেলে অ্যাপের মাধ্যমে সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া যায়। এতে হারানো জিনিসটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

    অবস্থান শেয়ার করে অন্য যাত্রীদের সহায়তা করলেও মিলবে পুরস্কার। এ জন্য ব্যবহারকারীদের পয়েন্ট দেওয়া হয়। লিডারবোর্ডে শীর্ষে থাকা ব্যবহারকারীরা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন পাওয়ার সুযোগ পান।

    এ ছাড়া কোন প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের কোন বগি থামবে, বিভিন্ন স্টেশনে কী কী সুবিধা রয়েছে এবং যাত্রীদের দেওয়া প্রয়োজনীয় তথ্যও পাওয়া যায় অ্যাপটিতে। ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইনের পাশে নিরাপদ থাকার পরামর্শের পাশাপাশি নামাজ ও ইফতারের সময় জানার সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।

    অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। কোনো যাত্রী নিজে অবস্থান শেয়ার করার সুবিধা চালু করলেই কেবল তাঁর অবস্থান থেকে ট্রেনের তথ্য পাওয়া যায়। চাইলে যেকোনো সময় এই সুবিধা বন্ধ করা সম্ভব। অন্য ব্যবহারকারীরা কোনো ব্যক্তির অবস্থান দেখতে পান না; তাঁরা দেখতে পান শুধু ট্রেনের অবস্থান।

    আল আমিন বলেন, ‘যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা অসাধারণ সাড়া পেয়েছি। ৫ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার চ্যাট বার্তা তারই প্রমাণ।’

    প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী স্বেচ্ছায় নিজেদের অবস্থান শেয়ার করে অপরিচিত মানুষকে সহযোগিতা করছেন—বিষয়টি তাঁকে আনন্দিত করে বলেও জানান তিনি।

    অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতার ভাষ্য, ট্রেন চ্যাটে প্রায়ই দেখা যায়, স্টেশনে অপেক্ষমাণ কেউ ট্রেনের অবস্থান জানতে চাইছেন, আর ট্রেনে থাকা কোনো যাত্রী সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে তথ্য দিচ্ছেন। যাত্রীদের মধ্যে এই পারস্পরিক সহযোগিতাই অ্যাপটির মূল শক্তি।

    আল আমিন বলেন, ‘ট্রেনের দেরিতে যখন দেখি মানুষ স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন, অফিস বা জরুরি কাজ হারাচ্ছেন, তখন খুব খারাপ লাগে। ট্রেন দেরিতে চলবে কি না, তা আমাদের হাতে নেই; কিন্তু মানুষ যেন অন্তত জানতে পারেন তাঁর ট্রেনটি এখন কোথায়, সেই কাজটুকু আমরা করতে পারি। একজন যাত্রীর একটি ছোট্ট শেয়ার শত শত মানুষের সময় বাঁচিয়ে দেয়। আমাদের লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি ট্রেনযাত্রী যেন সময় বাঁচিয়ে, দুশ্চিন্তা ছাড়া যাতায়াত করতে পারেন।’

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, আরও বেশি যাত্রীকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করে দেশের প্রতিটি রুটে নির্ভুল লাইভ তথ্য পৌঁছে দিতে চান তাঁরা। পাশাপাশি ট্রেনের পৌঁছানোর সময়ের পূর্বাভাস আরও নির্ভরযোগ্য করা এবং যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন