সময় থাকতে ভুল সংশোধন না করলে বিপদে পড়বে সরকার: অলি আহমদ

সময় থাকতে সরকারের ভুল সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেছেন, দিন শেষে সরকারের সব কর্মকাণ্ডের দায় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। এখন যারা তাঁর পাশে রয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে তাঁদের অনেকেই সরে যাবেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমদ বলেন, কয়েক মাস ধরে তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি ও সভার মাধ্যমে মানুষকে বারবার কষ্ট দিচ্ছেন। কিন্তু প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসছে না। তাঁদের এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়; অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেশের সুশাসন ও সঠিক পথে চলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তাঁরা কথা বলছেন।
দেশ পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নিয়ম প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সরকারি দপ্তর ও পদ পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন। কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। ইউরোপ ও আমেরিকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে রাষ্ট্রপ্রধান পরিবর্তন হলেও প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যালয়, জেলা পরিষদ, করপোরেশন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব জায়গা থেকে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন কাজের দরপত্রে প্রভাব বিস্তার এবং নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অলি আহমদ বলেন, সরকারের ভুলের দায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপরই বর্তাবে। এখন যারা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন, সংকটের সময় তাঁদের কেউ কেউ দায়িত্ব এড়িয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নিচ্ছেন না এবং একের পর এক ভুল করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরে তাদের সঠিক পথে রাখাই বিরোধী দলের কাজ। তাঁরা সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সরকার সতর্ক না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আমলে না নেওয়ায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। এমন পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা না করে সরকারকে আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারকে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর না করে যাঁরা বিষয়গুলো ভালো বোঝেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।