সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পাবেন ১০০ গুণী শিক্ষক সাংবাদিক গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে একমত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তান আছে, তবুও পাশে নেই কেউ, সদর  হাসপাতালে অসহায় ৭০ বছরের ‘ফুলি’ পড়াশোনা বা কাজের সময় গান শোনা কি মনোযোগ বাড়ায়? সেবা না বাড়ালে রুট বাতিল করে সরকারি বাস চালানোর হুঁশিয়ারি কোরআন-হাদিসের আলোকে বিয়ের ১০টি উপকারিতা নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক কেন নয়, হাইকোর্টের রুল ২২ লাইসেন্সবিহীন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার পরামর্শ আমি এবং আমার বোর্ড ব্যর্থতাকে ভয় পাই না : তামিম ইকবাল জুলাই-আগস্টে বিদেশি ঋণ শোধ ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার
  • পড়াশোনা বা কাজের সময় গান শোনা কি মনোযোগ বাড়ায়?

    পড়াশোনা বা কাজের সময় গান শোনা কি মনোযোগ বাড়ায়?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পড়তে বসেছেন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করছেন। পাশে চলছে পছন্দের গান। অনেকের কাছে গান ছাড়া দীর্ঘ সময় পড়াশোনা বা কাজ করা কঠিন। আবার কেউ গান বাজলেই বই বা কাজ থেকে মনোযোগ হারান। তাহলে কাজ বা পড়ার সময় গান শোনা কি সত্যিই মনোযোগ বাড়ায়?

    গবেষণার ফল বলছে, এর একক কোনো উত্তর নেই। গান কখনো মেজাজ ভালো রাখতে, একঘেয়েমি কমাতে এবং কাজে আগ্রহ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। আবার বিশেষ করে কঠিন পড়াশোনা, লেখা বা গভীর মনোযোগের কাজের সময় গানই বাড়তি বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে কাজের ধরন, গানের ধরন এবং ব্যক্তির অভ্যাসের ওপর।

    গান শুনলে মনোযোগ বাড়ে—এমন ধারণা কেন?

    গান শুধু শব্দ হিসেবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে না; এটি মানুষের মেজাজ, উত্তেজনার মাত্রা ও কাজের প্রতি আগ্রহেও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময়ের একঘেয়ে কাজের ক্ষেত্রে পছন্দের গান বিরক্তি কমিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিতে পারে।

    ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সঙ্গে মনোযোগ, একঘেয়েমি, কাজের প্রতি আগ্রহ ও মানসিক চাপের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা হয়। এতে সংগীতের প্রভাব ব্যক্তি ও কাজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে বলে উঠে আসে।

    তবে গান শুনে কাজ করতে ভালো লাগছে মানেই যে তথ্য মনে রাখার ক্ষমতাও বেড়ে যাচ্ছে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

    পড়াশোনার সময় গান কি ক্ষতি করতে পারে?

    পড়া, লেখা বা মুখস্থ করার মতো কাজে গানের কথা বা লিরিক্স মনোযোগে বাধা দিতে পারে। কারণ তখন মস্তিষ্ককে একই সময়ে লিখিত ভাষা এবং গানের শব্দ প্রক্রিয়া করতে হয়।

    ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক কাজ করানো হয়। এতে দেখা যায়, লিরিক্সযুক্ত সংগীত মৌখিক ও দৃশ্যগত স্মৃতি এবং পড়ার বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিকের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে ক্ষতি বা উপকার—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।

    ২০২৪ সালের আরেকটি গবেষণাতেও দেখা যায়, লিরিক্সযুক্ত পপ মিউজিক পড়ার বিষয় বোঝার ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যে ভাষায় পড়া হচ্ছে, সেই ভাষার গান থাকলে বিভ্রান্তির মাত্রা বেশি হতে পারে।

    কঠিন কাজের সময় নীরবতা কেন কাজে আসতে পারে?

    জটিল কোনো বিষয় পড়া, নতুন কিছু শেখা, গুরুত্বপূর্ণ লেখা তৈরি করা কিংবা গভীরভাবে চিন্তা করার সময় মস্তিষ্কের বড় একটি অংশ কাজটির প্রতি নিবিষ্ট থাকে। এ অবস্থায় গান অতিরিক্ত শব্দ হিসেবে মনোযোগে চাপ তৈরি করতে পারে।

    ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ কঠিন ধরনের cognitive task করার সময় তুলনামূলক কম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার করে। গবেষণাটি আরও ইঙ্গিত দেয়, সংগীত ও cognitive performance-এর সম্পর্ক ব্যক্তি এবং কাজের ধরনভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।

    তাই পরীক্ষার আগে কঠিন কোনো অধ্যায় পড়ার সময় যে গান আপনাকে উৎসাহ দেয়, সেটিই আবার মনোযোগে বাধা তৈরি করতে পারে।

    ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক কি তুলনামূলক ভালো?

    লিরিক্স না থাকলে গান কম বিভ্রান্তিকর হতে পারে—এমন ধারণা অনেকের। কিছু ক্ষেত্রে এটি সত্যি হলেও সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    ২০২৩ সালের গবেষণায় ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক শিক্ষার্থীদের cognitive performance-এ উল্লেখযোগ্য ক্ষতি বা উন্নতি—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে দেখাতে পারেনি। ফলে একে মনোযোগ বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় বলা যায় না।

    তবে যারা নিয়মিত গান শুনে পড়াশোনা করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রভাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিরিক্সযুক্ত গানের নেতিবাচক প্রভাব তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

    কোন ধরনের কাজে গান শোনা যেতে পারে?

    সব কাজের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ঘর গোছানো, হাঁটা, অপেক্ষাকৃত সহজ অফিসের কাজ কিংবা নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের সময় গান একঘেয়েমি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    অন্যদিকে নতুন বিষয় শেখা, জটিল গণিত করা, বই পড়া, লেখা বা মুখস্থ করার মতো কাজে অনেকের জন্য নীরব পরিবেশ বেশি কার্যকর হতে পারে।

    ২০২৪ সালের একটি systematic review-তেও সংগীত ও অন্যান্য auditory stimulation-এর cognitive performance এবং attention-এর ওপর প্রভাবকে মিশ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ গবেষণা থেকে সবার জন্য একই নিয়ম নির্ধারণ করা কঠিন।

    পছন্দের গানও কি মনোযোগে বাধা হতে পারে?

    হতে পারে। পছন্দের গান মেজাজ ভালো করতে পারে, কিন্তু গানটি খুব পরিচিত হলে বা তার সঙ্গে গাইতে শুরু করলে কাজ থেকে মন সরে যেতে পারে।

    বিশেষ করে যে গানের কথা আপনি ভালোভাবে জানেন, সেটি পড়াশোনার সময় বেশি বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। লিরিক্সযুক্ত সংগীতের ক্ষেত্রে এমন মনোযোগ বিচ্যুতির প্রমাণ বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে।

    গান শুনে কাজ করার সহজ কিছু নিয়ম

    গান শুনতে ভালো লাগলে তা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কাজের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে।

    কঠিন পড়াশোনা বা গুরুত্বপূর্ণ লেখার সময় প্রথমে নীরব পরিবেশে কাজ করে দেখা যেতে পারে। গান শুনতে হলে লিরিক্স ছাড়া ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক বেছে নেওয়া যেতে পারে।

    সহজ বা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের সময় পছন্দের গান একঘেয়েমি কমাতে এবং কাজে আগ্রহ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে গান শুনে পড়ার সময় বারবার মন গানের দিকে চলে যাচ্ছে কি না, সেটিও খেয়াল করা জরুরি।

    একই কাজের ক্ষেত্রে নিজের জন্য কোন পরিবেশ ভালো, তা বোঝার একটি সহজ উপায় হলো একদিন গান শুনে এবং অন্যদিন নীরবে কাজ করে দেখা। কোন পরিবেশে দ্রুত, নির্ভুলভাবে এবং কম ভুলে কাজ করা যাচ্ছে, তা তুলনা করলেই নিজের জন্য উপযোগী পদ্ধতিটি বোঝা সহজ হবে।

    তাহলে গান শুনে পড়বেন, নাকি নীরবে?

    এর উত্তর ব্যক্তিভেদে এবং কাজের ধরন অনুযায়ী আলাদা। গান শুনলে যদি মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং কাজের মানে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তাহলে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কঠিন পড়াশোনা, লেখা কিংবা ভাষা ও স্মৃতির ওপর বেশি চাপ পড়ে এমন কাজে লিরিক্সযুক্ত গান এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।

    শুধু গান শুনে কাজ করতে ভালো লাগছে কি না, সেটিই বিবেচনার বিষয় নয়। কাজটি কতটা ভালোভাবে হচ্ছে, কতটা মনে থাকছে এবং কতবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে—এসবও খেয়াল করা প্রয়োজন।

    গবেষণাগুলো থেকে মোটামুটি যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো—গান শুনলে সবার মনোযোগ বাড়ে বা গান শুনলেই মনোযোগ নষ্ট হয়, কোনোটিই সার্বজনীন সত্য নয়। গানের ধরন, লিরিক্সের উপস্থিতি, কাজের জটিলতা এবং ব্যক্তির অভ্যাসের ওপর এর প্রভাব বদলে যেতে পারে।

    তাই কঠিন পড়াশোনা বা মনোযোগনির্ভর কাজের সময় নীরব পরিবেশ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। আর সহজ বা একঘেয়ে কাজের ক্ষেত্রে পছন্দের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কাজে আগ্রহ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ