মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার

আদালতে উঠছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন

আদালতে উঠছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন
ছবি: এআই
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরোধ এখন আদালতে গড়িয়েছে। হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—সরকার কি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর বা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাদের প্রেস সুবিধা থেকে বাদ দিতে পারে?

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারজন আইন বিশেষজ্ঞের মতে, সংবাদ পরিবেশনের ধরন বা দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা হলে তা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আলোকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

শুক্রবার সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোকে ‘ফেক নিউজ’ প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরদিন আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক সংবাদ কাভারেজের কারণে গণমাধ্যমের ওপর চাপ তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, হোয়াইট হাউস যদি নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সীমিতসংখ্যক সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার দেয়, তাহলে সেই সুবিধা কে পাবেন তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা থাকলেও সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বৈষম্য করার প্রশ্ন উঠতে পারে।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক লুসি ডালগ্লিশ বলেন, সরকার কাউকে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে প্রবেশের অনুমতি না-ও দিতে পারে। তবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পর কার মতামত বা বক্তব্য সরকারের পছন্দ, তার ভিত্তিতে সাংবাদিক বাছাই করা আইনগতভাবে সমস্যাজনক হতে পারে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো ভবনের বাইরে থেকে তাদের প্রতিবেদন করতে পারবে। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘ফেক নিউজ’ প্রচারের অভিযোগ করে এবং প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে জায়গা পাওয়াকে তাদের অধিকার নয় বলে উল্লেখ করেছে।

এর মধ্যেই সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকো ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলো অভিযোগ করেছে, তাদের প্রকাশিত মতামত ও সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা এটিকে প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের অধিকার এবং ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে।

জেলা বিচারক টিমোথি কেলি বুধবার মামলাটির শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে সিএনএনের এক সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার বন্ধের সিদ্ধান্তও তিনি আটকে দিয়েছিলেন।

তবে হোয়াইট হাউসের সব ধরনের প্রেস সুবিধার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ওভাল অফিস কিংবা এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো সীমিত আসনের জায়গায় প্রেসিডেন্টের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২৫ সালের জুনে ওয়াশিংটন ডিসির একটি আপিল আদালতও নির্দিষ্ট কিছু স্থানে, যার মধ্যে ওভাল অফিস রয়েছে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু ক্ষমতা থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউসের সামগ্রিক প্রেস সুবিধা থেকে এপিকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই ক্ষমতা প্রযোজ্য নয় বলে আদালত মত দিয়েছিল।

ফলে বর্তমান বিরোধের মূল প্রশ্ন শুধু কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কি না, তা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারি স্থাপনায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নির্ধারণের ক্ষমতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের সমালোচনামূলক বা অপছন্দের সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানকে শাস্তিমূলকভাবে সীমিত করা যাবে কি না—এসব সাংবিধানিক প্রশ্নও। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্তে এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন