জুলাই অভ্যুত্থানের সেই দিন: শহীদ মিনারে মহাসমাবেশের ঘোষণা, গণভবনে জরুরি বৈঠক

২০২৪ সালের ২ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। আন্দোলন দমনে সরকার একদিকে মোবাইল ইন্টারনেট, ফেসবুক ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল, অন্যদিকে রাজপথে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে ঘিরে সারা দেশে নতুন করে আন্দোলনের গতি সঞ্চার হয়।
সেদিন সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘দ্রোহযাত্রা’ ও গণমিছিল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, সংস্কৃতিকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা এ সময় হত্যাকাণ্ডের বিচার, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি, কারফিউ প্রত্যাহার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে থাকে।
এদিন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ক অভিযোগ করেন, তাদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে আন্দোলন প্রত্যাহারের একটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে এসব পদক্ষেপ আন্দোলনের গতি থামাতে পারেনি। ওই দিনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা পরদিন ৩ আগস্ট দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ৪ আগস্ট থেকে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
একই সময়ে ৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এই কর্মসূচি জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে।