দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় প্রাণ গেল ১৪ জনের

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি-জনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেরালা রাজ্য। পাশাপাশি কর্ণাটকে ভূমিধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেরালায় রোববার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও বন্যাজনিত ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
কেরালা সরকারের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৭৫টি ত্রাণকেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সাথিসান সোমবার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ত্রাণকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। এর আগে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
কেরালা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারও রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এর কারণে আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে কেরালার বেশ কয়েকটি জেলার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। অনেক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেশী কর্ণাটক রাজ্যেও ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে এক দম্পতি ও তাদের ছেলে নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে।