পাকিস্তানে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের লংমার্চ, স্থগিতের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ করছে দেশটির রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামি। যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ফিরে না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার জন্য দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে অনুরোধ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে লংমার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদের অধিকার থেকে দলটি সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আমির।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জামায়াতে ইসলামির এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ নিয়ে জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর তাকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এ সময় তিনি মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান এবং জ্বালানি কর নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন।
ফোনালাপে হাফিজ নাঈমুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, জামায়াত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চায় না। তবে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তারা রাজপথে নেমেছেন এবং সরকারের উচিত নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করা।
জামায়াত আমির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে দলীয় অবস্থান নির্ধারণে সেন্ট্রাল ডিসিশন-মেকিং কাউন্সিল বা শূরার সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। তবে সরকারের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত লংমার্চ স্থগিত করা হলেও জনগণের স্বার্থে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে হাফিজ নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামির ট্রেন মার্চ মুলতান স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।
দলটির আমির বলেন, ট্রেনটি চার ঘণ্টা দেরিতে মুলতানে পৌঁছালেও সমর্থকদের মার্চকে স্বাগত জানানো ঠেকানো যায়নি। যারা তাদের কর্মসূচি নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল, মুলতানে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের স্বাগত জানাতে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন শহর ও জনপদেও মানুষ জামায়াতের এই মার্চকে স্বাগত জানাচ্ছে বলে দাবি করেন হাফিজ নাঈম। তিনি জানান, মার্চটি দক্ষিণ পাঞ্জাব হয়ে মধ্য পাঞ্জাবের দিকে যাবে।
সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, রাস্তায় কনটেইনার রেখে বা বিভিন্ন বাধা সৃষ্টি করে এই মার্চ থামানো যাবে না। পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা কথিত ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, তারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলগুলো যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। ভোক্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপের উদাহরণ হিসেবে গম, আটা ও চিনির দাম বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।