মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে কাভা ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ সরকারি চাকরিতে নারীদের কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিং মল ধস, আহত অর্ধশত; প্রত্যাহার সুনামি সতর্কতা পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়ে অর্থ দাবি, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিএসইসিতে চার বছরের জন্য নতুন কমিশনার হোসেন সাদাত সৌরবিদ্যুতের প্রসারের আড়ালে বাড়ছে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, তবু এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত ইসি: সিইসি
  • কোন অভ্যাসে শিশুরা হয় বেশি সফল ও সুখী? নতুন গবেষণার তথ্য

    কোন অভ্যাসে শিশুরা হয় বেশি সফল ও সুখী? নতুন গবেষণার তথ্য
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পরীক্ষার নম্বর নয়, বরং দায়িত্ববোধ ও জীবন দক্ষতাই ভবিষ্যতের সাফল্যের আসল চাবিকাঠি—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণা।

    প্রায় ৮৫ বছর ধরে পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, পড়াশোনা ও খেলাধুলার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ঘরের কাজে অংশ নেওয়া শিশুরা পরবর্তী জীবনে বেশি সফল ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।

    গবেষকদের মতে, যে শিশুরা মা–বাবা বা পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করে, তারা শুধু বাস্তব জীবনের দক্ষতাই অর্জন করে না, বরং তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে ওঠে। এই গুণগুলো পরবর্তীতে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ভূমিকা রাখে।

    গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এমন অভ্যাসে বড় হওয়া শিশুরা ভবিষ্যতে কেবল পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তুলনামূলকভাবে বেশি সুখী হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের সফল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের ছোট ছোট ঘরের কাজে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।

    ঘরের ছোট ছোট কাজ থেকেই বাড়বে আত্মবিশ্বাস

    বড়রা কী করেন, কী ভাবে কথা বলেন, কোন পরিস্থিতি কী ভাবে সামলান— এই সব কিছুই লক্ষ করে শিশুরা। তাদের মতো করে সে সব অনুকরণের চেষ্টাও করে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মানুবর্তীতার শিক্ষাও দৈনিক কাজের মাধ্যমেও দিতে পারেন বাবা-মায়েরা। অনেক শিশুই ছোটবেলায় পড়াশোনায় তেমন মনোযোগী হয় না। কেউ হয়তো পড়াশোনায় ভাল, কেউ খেলাধুলায়। তাই শুধু বইয়ের পাঠ বা খেলাধুলাকেই সাফল্য অর্জনের মাপকাঠি ভেবে ফেললে ভুল হবে। অমনোযোগী শিশুকেও দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা যায়, যদি তাকে ঘরের ছোট ছোট কাজের দায়িত্ব দেওয়া যায়। ছোট থেকেই সেই অভ্যাস করালে পেশাদারিত্বের মনোভাব ও দায়িত্বজ্ঞান তৈরি হবে শিশুর মধ্যে। তখন সে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজেও মন দেবে।


    কী কী দেখেছেন গবেষকেরা?

    ১) ছোট থেকে কাজ করলে শিশুরা বুঝে যায়, ফল পেতে হলে পরিশ্রম করা প্রয়োজন। যা তাদের ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী হতে সাহায্য করে।

    ২) ছোট ছোট কাজ, যেমন নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা, বিছানা পরিষ্কার করা বা জামাকাপড় গুছিয়ে রাখার মতো কাজ ঠিকমতো করতে পারলে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ভবিষ্যতে তা স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।

    ৩) ঘরের যে কোনও কাজে বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করলে তারা বুঝতে পারে প্রত্যেকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এতে অন্যের শ্রমের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বাড়ে। ভবিষ্যতে যা তাদের টিম ওয়ার্কে সাহায্য করবে।

    কী ভাবে ঘরের কাজের অভ্যাস করাবেন?

    বয়স অনুযায়ী শিশুদের নানা কাজ করতে পারেন। যেমন, প্রতি দিন ঘুম থেকে উঠে নিজের বালিশ ও চাদর গুছিয়ে রাখা অভ্যাস করানো।

    হাতের কাছে ছোট্ট ঝুড়ি বা বাক্স রাখুন। বলুন, খেলার পর খেলনাগুলি তাতে গুছিয়ে রাখতে। শুরুতে আপনি দেখিয়ে দিন, কী ভাবে গোছাতে হবে। ভাল করলেই প্রশংসা করুন। ছোট ছোট পুরস্কার দিন।

    খাওয়ার আগে প্লেট সাজানো বা খাওয়ার পর নিজের থালাবাটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার দায়িত্ব দিন।

    শিশুর জন্য আলাদা ওয়ার্ড্রোব রাখুন। সেখানে প্রচুর হ্যাঙ্গার ঝুলিয়ে দিন। খুদেকে বলুন নিজের জামাকাপড় ওই হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে। ওয়ার্ড্রোবের তাকেও জামাকাপড় রাখতে বলুন। প্রথমে হয়তো ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখতে পারবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করুন।

    শিশুর নিজের পড়ার ঘর থাকলে সেটি পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব দিন। যদি আলাদা ঘর না থাকে, তা হলে পড়ার জায়গা, টেবিল ও বইখাতা পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখতে বলুন। প্রতি দিনই এ কাজ করতে হবে তাকে।

    বাড়িতে গাছপালা থাকলে তার দায়িত্ব দিন শিশুকে। গাছে জল দেওয়া, পরিচর্যা করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিন। এই কাজ ভাল লাগলে মোবাইলের প্রতি আসক্তিও দূর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।

    অভিভাবকদের নিজেদের দায়িত্বও কিন্তু শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ঘুম থেকে ওঠার পরে মা-বাবা যদি নিজেদের বিছানা-বালিশ নিজেরা গোছান, তাঁদের দেখে শিশুও নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখতে শিখবে। যদি সে দেখে, তার খেলনা, বইয়ের তাক গোছানো নেই, তা হলে তা করার আগ্রহ তৈরি হবে তার মধ্যেও। তাই সে দিন থেকে বাবা-মাকেই বেশি যত্নশীল হতে হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ