মহানবীর (সা.) চিঠি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন পারস্য সম্রাট, এরপর যা ঘটেছিল

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর ইসলামের দাওয়াত আরব উপদ্বীপের বাইরে ছড়িয়ে দিতে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভিন্ন দেশের শাসকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্তা পাঠান। ষষ্ঠ হিজরির জিলহজ মাসে তিনি পারস্য, রোম, হাবশা, মিসর, শাম ও বাহরাইনের শাসকদের উদ্দেশে ইসলামের আহ্বানসংবলিত চিঠি প্রেরণ করেন।
পারস্যের সম্রাট খসরু পারভেজের কাছে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা আস-সাহমি (রা.)-কে। দীর্ঘ সফর শেষে তিনি পারস্যের রাজদরবারে উপস্থিত হয়ে জানান, তিনি মদিনা থেকে আল্লাহর রাসুলের (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে এসেছেন।
দূতের আগমনের খবর পেয়ে খসরু রাজকীয় দরবারে উজির, সেনাপতি ও অভিজাতদের উপস্থিতিতে সভার আয়োজন করেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা (রা.)-কে দরবারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সাধারণ পোশাকে উপস্থিত হলেও তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সম্রাটের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।
সম্রাটের এক কর্মচারী চিঠিটি গ্রহণ করতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে নির্দেশ দিয়েছেন চিঠিটি সরাসরি সম্রাটের হাতে পৌঁছে দিতে। পরে খসরু নিজেই চিঠিটি গ্রহণ করেন এবং দোভাষীকে পড়ে শোনাতে বলেন।
দোভাষী পাঠ শুরু করেন, ‘পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে পারস্যের সম্রাট খসরুর প্রতি…’
চিঠির শুরুতেই রাসুলুল্লাহর (সা.) নাম সম্রাটের নামের আগে উল্লেখ করা হয়েছে শুনে খসরু ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি পুরো চিঠি না পড়েই সেটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন অধীনস্থ ব্যক্তি কীভাবে তার নাম সম্রাটের আগে লেখার সাহস পায়। এরপর তিনি দূতকে দরবার থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
দায়িত্ব পালন শেষে আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা (রা.) মদিনায় ফিরে এসে পুরো ঘটনা মহানবীকে (সা.) জানান। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেন, ‘আল্লাহ তার রাজত্বকেও চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিন।’
এর কিছুদিন পর খসরু ইয়েমেনের গভর্নর বাযানকে নির্দেশ দেন, যেন তিনি সৈন্য পাঠিয়ে মহানবী (সা.)-কে গ্রেপ্তার করে পারস্যে পাঠান। বাযান দুইজন প্রতিনিধি মদিনায় পাঠালে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের একদিন অপেক্ষা করতে বলেন।
পরদিন তিনি তাদের জানান, আগের রাতেই আল্লাহর হুকুমে খসরু তার নিজের ছেলে শিরওয়াইহের হাতে নিহত হয়েছেন। দূতরা এ সংবাদ শুনে বিস্মিত হয়ে ইয়েমেনে ফিরে যান এবং বাযানকে সব ঘটনা জানান।
কয়েক দিনের মধ্যেই পারস্য থেকে একটি সরকারি বার্তা ইয়েমেনে পৌঁছে। সেখানে নিশ্চিত করা হয়, শিরওয়াইহ তার পিতা খসরু পারভেজকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেছেন।
ঘটনাটি বাযানের কাছে মহানবী (সা.)-এর নবুয়তের সত্যতার একটি স্পষ্ট নিদর্শন হয়ে ওঠে। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে ইয়েমেনে বসবাসকারী বহু পারসিক কর্মকর্তা, সৈনিক ও সাধারণ মানুষও ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেন।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া