‘৩৬ চায়না টাউন’ ও বাস্তব জীবনের এক যন্ত্রণাদায়ক গল্প

সিনেমার প্রভাব অনেক সময় রুপালি পর্দা ছাড়িয়ে বাস্তব জীবনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ২০০৬ সালের ২১ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া আব্বাস-মাস্তান জুটির জনপ্রিয় রহস্য-কমেডি সিনেমা '৩৬ চায়না টাউন' এমনই এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। মুক্তির প্রায় দুই দশক পার হলেও সিনেমাটির একটি সংলাপের কারণে মুম্বাইয়ের এক ডাক্তারের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠার ঘটনা আজও মানুষকে অবাক করে।
একটি ফোন নম্বর ও জীবন অতিষ্ঠ হওয়ার গল্প
সিনেমাটিতে অভিনেতা উপেন প্যাটেলের একটি সংলাপ ছিল যেখানে তিনি একটি ফোন নম্বর উচ্চারণ করেন। দুর্ভাগ্যবশত, সেই নম্বরটি ছিল মুম্বাইয়ের এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত নম্বর। উপেন প্যাটেল কেবল স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করলেও সিনেমা মুক্তির পর সেই ডাক্তারের কাছে হাজার হাজার অচেনা ফোনকল আসতে শুরু করে। কেউ মজা করে, কেউ আজেবাজে কথা বলে আবার কেউ গালিগালাজ করে তাঁর ফোনটিকে রীতিমতো অচল করে দেয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে শেষ পর্যন্ত সেই ডাক্তার নিজের নম্বরটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
তারকাবহুল কাস্টিং ও বক্স অফিস সাফল্য
প্রায় ১৯ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত এই ছবিটি বক্স অফিসে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা আয় করে দ্বিগুণ সাফল্য অর্জন করে। ছবিতে শাহিদ কাপুর ও করিনা কাপুর জুটির রসায়ন ছাড়াও অক্ষয় খান্না, পরেশ রাওয়াল এবং জনি লিভারের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেতা বিবেক শওক এবং দিনিয়ার কন্ট্রাক্টরের অভিনয় ছিল সাবলীল। হিমেশ রেশমিয়ার সুরে ‘আশিকি মে তেরি’ গানটি সেই সময় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়, যার জন্য সুনিধি চৌহান ফিল্মফেয়ারে সেরা গায়িকার মনোনয়ন পান।
পর্দার আড়ালের অজানা তথ্য
ছবিটি নিয়ে আরও কিছু চমকপ্রদ তথ্য রয়েছে:
-
বদল হওয়া কাস্ট: শুরুতে অনিল কাপুর, অক্ষয় কুমার, রানি মুখার্জি এবং বিবেক ওবেরয়কে নিয়ে ছবিটি করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেই জায়গায় যথাক্রমে অক্ষয় খান্না, শাহিদ কাপুর, করিনা কাপুর এবং উপেন প্যাটেলকে নেওয়া হয়।
-
ভয়েস ডাবিং: অভিনেতা উপেন প্যাটেলের সংলাপগুলো পরে ভয়েস আর্টিস্ট বিরাজ আধবের কণ্ঠে ডাবিং করাতে হয়েছিল।
-
আবহ সংগীত: সলিম-সুলেমানের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ছবির রহস্যময় আবহকে আরও জমাট করে তুলেছিল।