সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

সংগ্রামময় জীবন পেরিয়ে আরশাদ ওয়ার্সির বলিউড জয়ের গল্প

সংগ্রামময় জীবন পেরিয়ে আরশাদ ওয়ার্সির বলিউড জয়ের গল্প
বলিউড অভিনেতা আরশাদ ওয়ার্সি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বলিউড অভিনেতা আরশাদ ওয়ার্সি অনবদ্য কৌতুক অভিনয় ও সাবলীল পারফরম্যান্সে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের সাফল্য, পরিচিতি ও অর্থ তাকে ঘিরে রেখেছে। তবে এই সুখময় জীবনে পৌঁছাতে তাকে কঠিন সংগ্রাম ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজকাল ইন-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাবা-মা দুজনকেই হারান এ অভিনেতা। কিশোর বয়সেই অনাথ এ তারকাকে অর্থাভাবে স্কুল ছাড়তে হয়।

আরশাদ ওয়ার্সি যখন দশম শ্রেণিতে পড়াশুনা করেন তখন অভিভাবকহীন এ অভিনেতাকে অর্থাভাব ঘিরে ধরে। বাধ্য হয়ে স্কুল ছেড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি করতে শুরু করেন।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে অরশাদ জানান, পরিবার নিয়ে তার খুব বেশি স্মৃতি নেই। কারণ শৈশবের বেশির ভাগ সময়ই তিনি বোর্ডিং স্কুলে কাটিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পরে গৃহিনী মায়ের কিডনি বিকল হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, তাকে পানি দেবেন না। কিন্তু তিনি বারবার পানি চাইতেন। আমি দিতাম না।

অভিনেতা বলেন,

মা মারা যাওয়ার আগে রাতে আমাকে ডাকলেন। আবার পানি চাইতে শুরু করলেন। সেই রাতে তিনি মারা যান, আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়ি। মাঝেমধ্যে মনে হয়, যদি তাকে পানি দিতাম; তারপরও মারা যেতেন। তবে সারা জীবন ভাবতাম, তিনি আমার কারণেই মারা গেছেন।

স্বল্প সময়ের স্কুল জীবনে নাচ, গান শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে বেশিরভাগটা নিজে নিজেই সব শিখেছেন।  বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন জায়গায় গানের শো করতেন। প্রতি শো থেকে তিনি ১৭৫ রুপি পেতেন। বাড়ির খরচ, বিল আর মায়ের চিকিৎসা মিলিয়ে জীবন ছিল অনেক কঠিন।

মা মারা যাওয়ার পর কিছুদিন এতিমখানায়ও থেকেছেন আরশাদ। তার ভাগ্যবদল শুরু হয় ১৯৯১ সালে। একটি নাচের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৯৩ সালে ‘রূপ কি রানি চোরি কি রাজা’ সিনেমার শিরোনাম সংগীত কোরিওগ্রাফি করার সুযোগ পান। এ সময়ই তাকে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী জয়া বচ্চন।
 
১৯৯৬ সালে বচ্চন পরিবারের প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মিত ‘তেরে মেরে স্বপ্নে’ সিনেমায় সুযোগ পান আরশাদ। তবে তার জীবন বদলে যায় ২০০৩ সালে রাজকুমার হিরানীর ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’ সিনেমায় অভিনয় করে। এ সিনেমায় ‘সার্কিট’ চরিত্র তার ক্যারিয়ারের বাকবদল এনে দেয়। জনপ্রিয়তার সঙ্গে তার ক্যারিয়ারের ঝুলিতে মেলে পুরস্কারও। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নিতাকে।

আরশাদ ওয়ার্সি অভিনীত ‘মুন্না ভাই’, ‘গোলমাল’,‘ধামাল’ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়াও ‘অ্যান্থনি কৌন হ্যায়?’, ‘ধামাল’ তাকে কমেডি অভিনেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। নাসিরউদ্দিন শাহর সঙ্গে ‘ইশকিয়া’ ও অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘জলি এলএলবি’ সিনেমা তার ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
 
বতর্মানে বলিউড অভিনেতা আরশাদ ওয়ার্সি ৩৩০ কোটি রুপির মালিক। বছরে তার আয় ১৫-২০ কোটি রুপি।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন