শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম স্পারসো ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড, চেয়ারম্যান তারেক রহমান রপ্তানি নীতিতে পরিবর্তন, ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স খাতে বাড়ছে সুযোগ ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক লিটন দাস সিলেটে এনসিপির কর্মসূচির পথে হামলার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সারজিসের গাড়ি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ভুয়া নিয়োগে কঠিন ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী ‘দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের’, গোলাপগঞ্জে যাওয়ার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও ঢাকায় পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর
  • রুপালি পর্দার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী—এক কিংবদন্তির জীবনগাথা

    রুপালি পর্দার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী—এক কিংবদন্তির জীবনগাথা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলা চলচ্চিত্রে যাঁর হাসি একসময় দর্শকের হৃদয়ে আলাদা এক কোমলতার ছোঁয়া দিত, তিনি কবরী—রুপালি পর্দার সেই ‘মিষ্টি মেয়ে’। ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর চার বছর পরও তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর সংগ্রামের গল্প আজও সমানভাবে আলোচিত।

    ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্ম নেওয়া কবরীর প্রকৃত নাম ছিল মিনা পাল। শৈশব কেটেছে ফিরিঙ্গিবাজারে, আর পড়াশোনা করেছেন আলকরণ স্কুল ও জে এম সেন হাইস্কুলে। ছোটবেলার সাধারণ জীবনেই লুকিয়ে ছিল শিল্পী হওয়ার বীজ। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে তাঁর যাত্রা শুরু হয়।

    ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবির মাধ্যমে মাত্র ১৪ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর। সেই শুরুই পরবর্তীতে তাঁকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য অবস্থানে পৌঁছে দেয়।

    ষাটের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী দুই দশকে কবরী অভিনয় করেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে। ‘জলছবি’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘সারেং বৌ’, ‘সুজন সখী’, ‘রংবাজ’, ‘দেবদাস’—প্রতিটি ছবিতেই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় মুখ। তাঁর চোখের অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার স্বাভাবিক ভঙ্গি এবং সাবলীল অভিনয় তাঁকে অনন্য করে তোলে।

    ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় তাঁকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়, যেখানে তিনি শুধু নায়িকা নন, হয়ে ওঠেন এক শক্তিশালী শিল্পীসত্তা। বাংলা ও উর্দু—উভয় ভাষার চলচ্চিত্রেই তিনি সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন।

    নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। পাশাপাশি ফারুক, আলমগীর, সোহেল রানা, উজ্জ্বল ও জাফর ইকবালের মতো নায়কদের সঙ্গে কাজ করে তিনি গড়ে তুলেছেন সমৃদ্ধ এক চলচ্চিত্রভুবন।

    অভিনয়ের পাশাপাশি কবরী ছিলেন একজন নির্মাতাও। ২০০৫ সালে তিনি ‘আয়না’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। জীবনের শেষ দিকে এসে ‘এই তুমি সেই তুমি’ নামের একটি চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনা—তিন ভূমিকাতেই যুক্ত ছিলেন, যদিও সেটি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ভারতে গিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও প্রচারণার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে কাজ করেন।

    ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন পাঁচ সন্তানের জননী। তাঁর জীবন নানা ওঠানামায় ভরা হলেও শিল্পীসত্তা কখনো থেমে থাকেনি। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত হন এবং ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    ২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘স্মৃতিটুকু থাক’ তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়কে তুলে ধরে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় তিনি ভূষিত হন।

    ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র হারায় এক যুগান্তকারী নায়িকাকে। কিন্তু কবরী আজও বেঁচে আছেন তাঁর চলচ্চিত্র, তাঁর চরিত্র আর দর্শকের স্মৃতিতে—এক অমলিন ‘মিষ্টি মেয়ে’ হয়ে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ