আমাকে কোনো জমি দেওয়া হয়নি: দাবি আরিফিন শুভর

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ ২০০৪ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমানভাবে কাজ করে আলোচনায় রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় এবং বহুল আলোচিত ‘মুজিব’ সিনেমা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
২০২৪ সালকে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বছরগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন শুভ। তিনি জানান, এ বছর তিনি তার মাকে হারান, যিনি ছিলেন তার সবচেয়ে কাছের মানুষ। একই সময়ে তার দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনেরও সমাপ্তি ঘটে। এছাড়া ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মুখোমুখি হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘মুজিব’-এ অভিনয়ের জন্য মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়া নিয়ে একসময় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে গুঞ্জন ওঠে, এর বিনিময়ে তিনি সরকারের কাছ থেকে ১০ কাঠার একটি প্লট পেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে শুভ স্পষ্টভাবে বলেন, তাকে কোনো জমি দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, তিনি শুধু একটি আবেদন করেছিলেন, যা আরও ১৫১ জন শিল্পীর মতোই ছিল। ১ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি ছিল তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের প্রতি আবেগ থেকে, আর প্লটের আবেদন ছিল ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে। তবে সেই জমির কোনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি এবং তিনি সেখানে কখনো যাননি বলেও জানান তিনি।
রাজনীতি সম্পর্কে নিজের সীমিত জ্ঞান থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুজিব’ সিনেমায় কাজ করার কারণেই তাকে উদ্দেশ্য করে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। তবে তিনি সবসময় নিজেকে একজন অভিনেতা হিসেবেই দেখতে চান এবং কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার কোনো প্রমাণ নেই বলেও দাবি করেন।
কঠিন সময়ে অনেক সহকর্মীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পেলেও বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। এতে তিনি প্রকৃত মানুষদের চেনার সুযোগ পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমানে মুম্বাইয়ের একটি কাস্টিং এজেন্সির মাধ্যমে নতুন কাজ ‘সিটি’-তে যুক্ত হয়েছেন শুভ। বাংলাদেশ ও কলকাতার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত এই প্রজেক্ট নিয়ে তিনি আশাবাদী। ঢাকায় ক্যারিয়ার শুরু করতে এসে মাত্র ২৫৭ টাকা নিয়ে যাত্রা করা এই অভিনেতা ভবিষ্যতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।