রাহুলের চলে যাওয়া, শ্বেতার ফিরে পাওয়া জীবন

টলিউডকে শোকমগ্ন করে দিয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু। এই ঘটনার সবচেয়ে কাছের সাক্ষী সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র এখনও আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার সীমান্তবর্তী তালসারির সমুদ্রপাড়ে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। পরের দিন পুরো টিম শুটিং শেষ করে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, সমুদ্রে নেমে ডুবে যান রাহুল, আর এভাবেই শুরু হয় এক অপ্রত্যাশিত ট্র্যাজেডি।
একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তালসারির সমুদ্রে রোববার বিকেলে তলিয়ে যাওয়ার প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় অভিনেতা রাহুলকে। দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ৪৩ বছরের অভিনেতাকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ছবির শুটিং-এ তালসারি গিয়েছিলেন রাহুলরা। অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রও ছিলেন ওই সিরিয়ালে। ইউনিটের প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, ঘটনার সময় নায়িকা শ্বেতা মিশ্র আর রাহুল সমুদ্রের দিকে গিয়েছিলেন। পরে অভিনেত্রী টেকনিশিয়ানদের ডাকেন।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শ্বেতা হাসপাতালে বসে রয়েছেন। তাকে ধরে রাখা যাচ্ছে না। তিনি বলছেন, “আমি আর রাহুল দা আধ ঘণ্টা আগেও তো শুটিং করছিলাম। আমিও পড়ে গেলাম। আমি তো ঠিক আছি। রাহুল দা ঠিক আছে তো? আমি কথা বলব, আমাকে যেতে দিচ্ছে না।”
এপিবি আনন্দের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হাঁটু সমান পানিতে চলছিল শুটিং। কিন্তু ক্যামেরা বন্ধ হওয়ার পর অভিনেতা রাহুল ও তার সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা কিছুটা গভীর পানির দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পানির তোড় বেশি থাকায় হঠাৎ ঢেউয়ের ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে তলিয়ে যান শ্বেতা। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অভিনেতা রাহুলও গভীর পানিতে পড়ে যান।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী না থাকলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। মূলত সাঁতার না জানার কারণেই অভিনেতা রাহুল এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে অভিনেত্রী শ্বেতা গভীর পানিতে পড়ে যান এবং তাঁকে বাঁচাতে গিয়েই তলিয়ে যান রাহুল। তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা শ্বেতাকে উদ্ধার করে সেফটি বোটে তুললেও রাহুলকে উদ্ধার করতে কিছুটা সময় লেগে যায়। দুজনেই প্রচুর পানি খেয়ে ফেলায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা রাহুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, তালসারিতে শুটিং করার কোনো বৈধ অনুমতি ছিল না। এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে শুটিং ইউনিটের দাবি, তারা নিয়ম মেনেই অনুমতি নিয়েছিলেন। রোববার রাতে রাহুলের মরদেহ তমলুক মেডিকেলে আনা হয়েছে এবং আজ সোমবার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সমুদ্রের ভেতরে নাচের একটি দৃশ্যের শুটিং চলছিল। যদিও সেই সময় পানি খুব বেশি ছিল না। তবে বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ জোয়ার এলে পরিস্থিতি বদলে যায়। জোয়ারের সঙ্গে পানির গভীরতা বেড়ে যায়, তৈরি হয় চোরাবালির ফাঁদ সেখানেই তলিয়ে যান রাহুল। উপস্থিত ক্রু সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
দৈএনকে/জে, আ