দীঘায় শুটিংয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়

দিঘায় ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ এই দুঃসংবাদ সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে টলিউড অঙ্গনে।
জানা যায়, একটি ধারাবাহিকের শুটিংয়ের কাজে দিঘায় অবস্থান করছিলেন এই অভিনেতা। শুটিং চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
ঘটনার পরপরই সহকর্মী ও ইউনিট সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। টলিপাড়ার অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে তার মরদেহ কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সোমবার সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হঠাৎ এমন মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা এই অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলা টেলিভিশন ও অভিনয় জগতে কাজ করে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তার মৃত্যুতে বিনোদন জগতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
আর্টিস্ট ফোরাম সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ৮টায় ময়নাতদন্ত শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, ৯টা বেজে যাওয়ার পরেও নাকি তা শুরু হয়নি। দিঘা থেকে কলকাতার বিজয়গড়ে রাহুলের বাড়ি পর্যন্ত অভিনেতার মরদেহ নিয়ে আসার দায়িত্ব নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম।
রাহুলের অকালপ্রয়াণে শোকাহত মুখ্যমন্ত্রী রবিবার সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘কী করে যে কী হয়ে গেল, আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। সে আমার খুব পছন্দের অভিনেতা ও মানুষ ছিল।’’ অভিনেতার পরিবার, পরিজন ও অগণিত অনুরাগীদের প্রতি তিনি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন সেই পোস্টেই। বাংলা ছবির জগতে রাহুলের অবদান যে ভুলে যাওয়ার মতো নয়, সে কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘রাহুলের এই হঠাৎ চলে যাওয়া বাংলার অভিনয় জগতের জন্য, টলিউড ও টেলিউডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’’
রবিবার দুঃসংবাদ পেয়েই শাশুড়িমায়ের কাছে ছুটেছিলেন রাহুলের স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। কিছু ক্ষণ থেকে চলে যান ছেলে সহজের কাছে। ছেলেকে সামলে ফের রাতে শাশুড়িমায়ের কাছে আসেন অভিনেত্রী। আপাতত সোমবার দুপুরের অপেক্ষায় বিজয়গড়। শোনা যাচ্ছে, দুপুরেই বাড়ি ফেরানো হবে অভিনেতার দেহ।