আজ পর্দা নামছে অমর একুশে বইমেলায়

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬–এর শেষ দিন আজ রোববার। সন্ধ্যার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা নামবে বইকে ঘিরে লেখক-পাঠকের এই বার্ষিক মিলনমেলার। ফলে আবারও বইপ্রেমীদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জমায়েত হতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী এক বছর।
এবারের মেলা মোট ১৮ দিন চললেও লোকসমাগম তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে জানিয়েছেন অনেক প্রকাশক। শেষের দিকে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি স্টল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অনেক বইও নষ্ট হয়েছে।
প্রকাশকদের একটি অংশের দাবি, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের চেয়েও এবারের মেলায় তাদের আর্থিক ক্ষতি বেশি হয়েছে। রমজান মাসে মেলা আয়োজনের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তাই অনেক প্রকাশক মেলা ঈদের পর আয়োজনের দাবি তুলেছিলেন।
শুক্রবারের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে কয়েকটি স্টলের বই ভিজে যায়। ‘স্বরে অ’, ‘দাঁড়িকমা’সহ কয়েকটি স্টলের সামনে বই শুকাতে দেখা গেছে। ‘স্বরে অ’-এর সম্পাদক অনিমেষ প্রাচ্য জানান, প্রবল বৃষ্টির কারণে টিনের ছাউনির নিচেও পানি ঢুকে বই ভিজে গেছে। অনেক স্টলের কর্মীদের বই শুকাতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে বৃষ্টির কারণে মেলার মাঠে কাদা ও পানি জমে গেলেও পরদিন রোদের তাপে অনেকটাই শুকিয়ে যায়। তবে তড়িঘড়ি করে তৈরি করা স্টলগুলোতেই ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও মতভেদের কারণে অনেক প্রকাশক মেলার শেষদিকে স্টল নিয়েছিলেন। ফলে দ্রুত স্টল তৈরি করতে গিয়ে তারা বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) স্বত্বাধিকারী মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, এবারের মেলায় প্রকাশকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় এবারের মেলায় বই বিক্রি প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।
তিনি আরও জানান, স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছর বই বিক্রি প্রায় ৭০ শতাংশ কম হয়েছে। অনেক প্রকাশক তাদের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচও তুলতে পারেননি। প্রায় ৩০ শতাংশ প্রকাশকের পাঁচ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকদের অন্তত একটি করে মানসম্মত বইয়ের ৩০০ থেকে ৫০০ কপি সরকারি উদ্যোগে কেনা, প্রকাশনাশিল্পে দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং পাঠাভ্যাস বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া।
এছাড়া পরিকল্পিতভাবে আগে থেকেই বইমেলার সময় নির্ধারণ এবং জাতীয় গ্রন্থনীতি বাস্তবায়নের দাবিও জানান তারা।
গতকাল পর্যন্ত মেলার তথ্যকেন্দ্রে জমা পড়া নতুন বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭১টি। এর মধ্যে শুধু গতকালই জমা পড়েছে ১৫৭টি নতুন বই।
এদিকে মেলার বিভিন্ন মঞ্চে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলমঞ্চে মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন কয়েকজন লেখক ও গবেষক। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও আবদুল আলীম ফাউন্ডেশন।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষে কয়েকটি পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে কথাপ্রকাশ। গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা বইয়ের জন্য মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে ঐতিহ্য, প্রথমা প্রকাশন ও ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
আজ সমাপনী দিনে মেলা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান।