বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা, কারাগারে বিদিশা

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা, কারাগারে বিদিশা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২০ মে একই আদালত বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।

বুধবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। এ সময় তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান আপিলের শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, মামলাটিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়। এরপর বিদিশার অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে। আপিল করার সুযোগ দিতে তিনি জামিন চান।

তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিদিশা মামলার বিষয়ে আদালতের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাননি এবং অবগত থাকার পরও আদালতে হাজির হননি।

রাষ্ট্রপক্ষও জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত বিদিশার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে শুনানির সময় তাকে এজলাসে তোলা হয়নি।

ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি নিয়ে মামলা

বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ৮০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়। একই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন।

বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পন্ন হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের পরও তা হস্তান্তর করা হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ ফেরত বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর কোনোটিই করা হয়নি। এমনকি তাকে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও মামলায় আনা হয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন