বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ৪০০ নম্বর, ফরম পূরণ শুরু ১ সেপ্টেম্বর

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ৪০০ নম্বর, ফরম পূরণ শুরু ১ সেপ্টেম্বর
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ করে নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার সময়ও বিষয়ভেদে নির্ধারণ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা ‘জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা’ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে।

বাংলা বিষয়ের পূর্ণমান ১০০ এবং সময় তিন ঘণ্টা। ইংরেজিতেও ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে তিন ঘণ্টায়। গণিতের পূর্ণমানও ১০০ এবং সময় তিন ঘণ্টা।

বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই দুই বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। মোট তিন ঘণ্টার মধ্যে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ থাকবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। এ সুবিধা পেতে জেলা বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে। শ্রুতিলেখকের প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নেওয়া যাবে।

কারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে

অষ্টম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক ও সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ২০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা যাবে। প্রয়োজনে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এই হার পরিবর্তন করতে পারবে।

কোনো শিক্ষার্থী ছাড়পত্র নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেও আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ নিতে বোর্ড ফি ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ২০০ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীর মোট ফি ৬০০ টাকা। অনলাইনে ফরম পূরণের সময় বোর্ড ফি এবং কেন্দ্র নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবের কাছে কেন্দ্র ফি পরিশোধ করতে হবে। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফি পরিবর্তন হতে পারে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকছে কঠোর নিয়ম

পরীক্ষার হলে প্রতিটি বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে। বেঞ্চের সারির মাঝেও চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রসচিবের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের গোপন প্যাকেট খোলার ব্যবস্থা থাকবে।

ওএমআর শিটের নির্ধারিত অংশ আলাদা করে রোল নম্বর অনুযায়ী সাজিয়ে জমা নেওয়া হবে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। দায়িত্ব পালনে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা গাফিলতি করলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন ফরম পূরণ

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণ শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর। চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা ৩১ আগস্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নির্ধারিত পরিচিতি নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রবেশ করে সম্ভাব্য তালিকা থেকে নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। হার্ডকপি যাচাই, অস্থায়ী তালিকা প্রস্তুত এবং চূড়ান্ত যাচাই শেষে ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের সোনালী সেবা চালু থাকা শাখায় নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষার্থী তালিকা প্রিন্ট করা যাবে। তালিকায় পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষর এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানের স্বাক্ষর থাকতে হবে।

১৩ সেপ্টেম্বর ফি জমার শেষ দিন

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ফরম পূরণ করা যাবে। পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ, ফি পরিশোধ ও চূড়ান্তভাবে আবেদন জমা দেওয়ার সব ধাপ শেষ করতে হবে।

নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রও দেওয়া হবে না।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন