‘ভূত বাংলা’-র গান: ট্রিবিউট নাকি নকল, সীমারেখা কী?

রূপালি পর্দায় সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভূত বাংলা’ ছবির গান ‘রামজি আকে ভলা করেঙ্গে’ নকল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। গানের কিছু অংশ—যেমন ‘কালা ভূত গোরা ভূত, লম্বা ভূত, ছোটা ভূত’—শ্রোতাদের মনে করিয়ে দিয়েছে সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ ছবির ‘ভূতের রাজা দিল বর’ গান।
গানের সঙ্গীত পরিচালক প্রীতম চক্রবর্তী সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন, এটি সত্যজিৎ রায়ের ছবিকে উৎসর্গ করা। ছবির পরিচালক প্রিয়দর্শন ও নায়ক অক্ষয় কুমারও গানটি ‘ট্রিবিউট’ হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, উৎসর্গ করলেই কি নকল অভিযোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়?

গানটি গেয়েছেন বাঙালি গায়ক আর্ভান, তিনি জানিয়েছেন, মূল গান ও ‘রামজি আকে ভলা করেঙ্গে’-র স্বরলিপি সম্পূর্ণ ভিন্ন, এবং সুর ও স্কেলের পার্থক্য স্পষ্ট।
শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ কেউ গানটিকে ট্রিবিউট হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আবার অনেকে নকলের অভিযোগ তুলেছেন। এটি প্রীতমের প্রথমবারের নয়; এর আগে তার ‘বুলেয়া’, ‘ধুম মচালে’, ‘ভুল ভুলাইয়া’ গানের সঙ্গেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল।
আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, অনুমতি ছাড়া প্রকাশিত গান কপিরাইট লঙ্ঘন বলে গণ্য হয়। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলে গবেষণা বা অবাণিজ্যিক কাজে নতুনভাবে ব্যবহার করা যায়। মূল স্বত্বাধিকারীর অনুমতি নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
সন্দীপ রায়ের পক্ষ থেকে জানা গেছে, গানটির দুটি মাত্র লাইন ব্যবহৃত হয়েছে এবং তারা এটিকে ট্রিবিউট হিসাবেই দেখছেন। সঙ্গীত বিশেষজ্ঞরা সাধারণত নির্ধারণ করতে পারেন, কতটা অংশ নকল বা অনুপ্রেরণার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে।
সঙ্গীত বিশেষজ্ঞরা বলেন, উৎসর্গ বা অনুপ্রেরণার উদ্দেশ্যে মূল সৃষ্টির অংশ ব্যবহার করলে তা সৃজনশীল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কপিরাইট লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট সীমা নেই, এবং এটি প্রায়ই শিল্পীর উদ্দেশ্য ও স্বচ্ছতা-র ওপর নির্ভর করে।
এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ন্যায্য স্বীকৃতি ও সঙ্গীতের মূল সৃষ্টির প্রতি সম্মান নিশ্চিত করলেই ট্রিবিউটের ধারা বজায় থাকে।
দৈএনকে/জে, আ