মক্কা-মদিনায় হঠাৎ ফ্লাইট স্থগিত: বিমানবন্দরে হাজারো ওমরাহযাত্রী আটকা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় আটকা পড়েছেন তিন হাজার পাঁচশোর বেশি বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী (মুতামির)। অনেকের টিকিট বাতিল হওয়ায় দেশে ফেরার উপায় নেই, আবার প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করছে না ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। নতুন করে দেশে ফিরতে ৫০-৬০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হচ্ছে—তবে অনেকের কাছেই সেই অর্থ নেই। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
শুক্রবার বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে আসেন দুই বাংলাদেশি মুতামির। একজন রাজশাহীর মো. আজাদ, অন্যজন মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দার। তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল শনিবার। কিন্তু এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারেননি।
এখন তাদের হাতে টাকা নেই, নেই দেশে ফেরার টিকিটও। নতুন করে টিকিট কাটতে ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মাজেদুল ইসলাম ৫০-৬০ হাজার টাকা দাবি করছেন। এ অবস্থায় সহায়তার আশায় তারা মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনে যান এবং মিশনপ্রধান কনসাল কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন।
তাদের অভিযোগ শোনার পর সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের সঙ্গে কথা বলেন হজ কর্মকর্তা। দরিদ্র মুতামিরদের জন্য কিছু টাকা ভর্তুকি দেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।
মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারলাইন্স হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে আসা সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। তাদের কেউ মক্কায়, কেউ মদিনায় অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, অনেক মুতামিরের টিকিট বাতিল হয়ে গেছে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নতুন করে টিকিট কাটতে বলছে এবং এজন্য অতিরিক্ত ৫০-৬০ হাজার টাকা করে চাইছে।
কামরুল ইসলাম আরও বলেন, “অনেক যাত্রী হোটেলের বিল দিতে পারছেন না। কারও কারও খাবারের খরচও নেই। নানা সমস্যা নিয়ে প্রতিদিনই তারা বাংলাদেশ হজ মিশনে আসছেন। আমরা অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সঙ্গে কথা বলছি।”
সূত্র জানায়, ফ্লাইট বা টিকিট বাতিল হলে এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত টাকা ফেরত দেয়, তবে এটি সময়সাপেক্ষ। তাই আপাতত আটকে পড়া যাত্রীদের নতুন টিকিট কিনেই দেশে ফিরতে হচ্ছে। তবে যেসব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু আছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন টিকিট কাটার প্রয়োজন হচ্ছে না।
রাজশাহীর মুতামির মো. আজাদ জানান, দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ওমরাহ পালন করতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে আসেন তিনি। দেশে ফেরার কথা ছিল ৭ মার্চ। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। তিনি বলেন, “এখন দেশে ফিরতে নতুন করে টিকিট কিনতে ৫০ হাজার টাকা চাইছে ট্রাভেল এজেন্সি। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব? খাব কী, থাকব কোথায়—কিছুই বুঝতে পারছি না।”
আরেক মুতামির রিয়াজুল হায়দার বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে নিজ খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়া করছি। ট্রাভেল এজেন্সি কোনো সহযোগিতা করেনি। এখন ইন্ডিগো এয়ারে কলকাতা হয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছি।”
গত শনিবার দুপুরে মক্কার মিশফালাহ এলাকার পাশে বাংলাদেশ হজ মিশনে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের মো. দিদার, সাইফুল হক ও ছিদ্দিক আহমদসহ কয়েকজন মুতামির সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রত্যেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্যাকেজে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে এসেছিলেন। তাদের এমিরেটসের ৩ মার্চের ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে।
ফলে, অনেক বাংলাদেশি এখন মক্কা ও মদিনা থেকে ভারতের কলকাতা হয়ে ইন্ডিগো এয়ারে ঢাকা বা চট্টগ্রামে ফেরছেন বলে মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশন সূত্রে জানা গেছে।