শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে রোববার হাইকোর্টে হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক।
মামলাটির শুনানি শুরু হয় গত ১১ আগস্ট একই হাইকোর্ট বেঞ্চে। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। তাঁকে সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে হিটুর মৃত্যুদণ্ড
মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে ২০২৫ সালের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখ আপিল করেন।
যেভাবে ঘটেছিল আছিয়ার মৃত্যু
২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও পরে ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি আলোচিত ও নির্মম ঘটনার পর মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশে গঠিত ওই বেঞ্চে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন ও আপিলের শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আছিয়া হত্যা মামলার নথিও ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল।